মাটি পরীক্ষা না করে সার দেওয়ায় পরিমাণ বেশি লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কৃষি মন্ত্রণালয়রে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি চিন্তা করেছি, জমির তুলনায় কেন এত বেশি সার লাগছে? পরবর্তী সময়ে দেখতে পেলাম, আমাদের মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করা হয় না। এতে করে সার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রয়োগ হচ্ছে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর গাবতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আয়োজিত ৬ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সার গুদাম উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, যেখানে মাটির পিএইচ ৭ দশমিক ৫ থাকার কথা সেখানে সারা দেশে গড়ে মাটির পিএইচ ৪ দশমিক ৫। তাই আমরা সারা দেশের মাটি পরীক্ষার একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলাম, যা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ভবিষ্যতে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
মাটির স্বাস্থ্য ও সুষম সার ব্যবহারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত মাটি পরীক্ষা ও মাটির উর্বরতা বিবেচনা না করে সার ব্যবহারের ফলে মাটির অমøতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মাটির অমøতা স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরিয়ে আনতে সরকার দেশব্যাপী মাটি উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে। মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সার ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সারের চাহিদা কমবে এবং কম সার প্রয়োগ করেও অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।
এ সময় আমিন উর রশিদ সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। তিনি বলেন, কৃষক সময়মতো প্রয়োজনীয় সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তাই সার সংগ্রহ, মজুদ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকলেই হবে না, তা যথাসময়ে কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। সার মজুদ ও বিতরণের হিসাব নিয়মিত যাচাই করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা গ্রহণযোগ্য নয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিএডিসির প্রায় ২০০টি গুদামের দৈনিক সার প্রবেশ ও সরবরাহের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। এতে মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশে সার একটি অত্যন্ত ভর্তুকিনির্ভর কৃষি উপকরণ। তাই সরকারি ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।