উৎসবে আনোয়ারা-কর্ণফুলী

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৪ এএম

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের উদ্বোধন আজ। এই দিনটি ঘিরে উৎসবের রঙে সেজেছে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকা। টানেল উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় জনসভায় যোগ দেবেন। তাকে বরণ করতে মাসখানেকের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

সর্বত্র শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি-সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন। সড়ক-মহাসড়কে নির্মাণ করা হয়েছে শতাধিক তোরণ। এসব ব্যানারে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নচিত্র বেশি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া দলের প্রতীক নৌকা নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রচারণা।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর পতেঙ্গা প্রান্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল এলাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের পর বেলা ১১টায় আনোয়ারার কেইপিজেড মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। কয়েক দিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রামে অবস্থান করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনে জনমনেও নানা কৌতূহল বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ দুই যুগ পর আনোয়ারার মাটিতে পা রাখছেন। তার আন্তরিকতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রচেষ্টায় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমূল পরিবর্তন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনোয়ারায় আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষও অনেক কৌতূহলী। কারণ সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

তবে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর চাওয়া, তাদের এলাকায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হোক। এ বিষয়ে আনোয়ারা সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্র সাইফুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারায় আসছেন। তার কাছে আমাদের কিছু দাবি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। দক্ষিণ চট্টগ্রামের চেয়ে অনেক ছোট জেলা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়ার সব যোগ্যতা দক্ষিণ চট্টগ্রামের রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভায় ১০ লাখের বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। জনসভা সফল করতে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা থেকে এসব মানুষ আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডপর্যায়ে বর্ধিত সভাসহ দফায় দফায় মতবিনিময় করা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক ভিন্ন রঙের টি-শার্ট, ক্যাপ পরে আসবেন নেতাকর্মীরা। রাখা হয়েছে পরিবহনের ব্যবস্থা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে বিশাল রোড-শো করেছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘সব প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু নেত্রী আসবেন। মঞ্চে উঠবেন। চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তার বক্তব্য শোনার জন্য অধীর আগ্রহ ও কৌতূহল নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ জনমানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।’

নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক এম এ মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এজন্য জনসভার মাঠে ও মাঠের বাইরে পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি জানান, জনসভায় আগতদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে চার লাখ পানির বোতল মাঠের বিভিন্ন জায়গায় রাখা হবে। যাতে তৃষ্ণার্তরা চাইলে পানি পায়। এ ছাড়া কাফকোর সহায়তায় মাঠের বাইরে কয়েকটি বিশুদ্ধ পানির গাড়ি থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে এক মাস ধরে প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, জেলা-উপজেলায় এমনকি ওয়ার্ডপর্যায়েও বর্ধিত সভা, উপকমিটি গঠনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জনসভাস্থল ও আশপাশ এলাকায় ২০০ মাইক থাকবে। আটটি পয়েন্টে এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাতে যাদের মাঠে জায়গা হবে না, তারা বাইরেও প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পারেন, বক্তব্য শুনতে পারেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর পানির নিচ দিয়ে গাড়ি চলবে, এটা দেশের মানুষ কল্পনাও করেনি। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য জনসভাটি স্মরণীয় করে রাখতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত