চতুর্দশ মৃত্যুবার্ষিকী

নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন স্মরণ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

চতুর্দশ মৃত্যুবার্ষিকীতে গাজীপুরের নন্দনকানন নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে। দিনটি উপলক্ষে গতকাল রবিবার নুহাশপল্লীতে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে হুমায়ূন আহমেদের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিত, স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন অংশ নেন। এ ছাড়া হুমায়ূনভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর ছিল নুহাশপল্লী। 

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, সকাল থেকে আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নেন। দুপুরে মিলাদ মাহফিল শেষে সাড়ে তিনশ এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত, লেখক আর নাট্যজনদের ভিড় জমে লেখকের কবর নুহাশপল্লীর লিচুতলায়। তারা ফুল দিয়ে জনপ্রিয় এ লেখককে শ্রদ্ধা জানান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মেহের আফরোজ শাওন। তিনি বলেন, ‘১৪ বছর ধরে শুধু আমরা নুহাশপল্লীর কর্মীরা মিলে হূমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ও মৃত্যু দিন নিয়মিত পালন করছি। এর বাইরে তার জন্ম-মৃত্যু দিন পালনে রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে কিছু চাওয়ার নেই। এক সময় আশা ছিল, কিন্তু এখন কোনো চাওয়াও নেই, আশাও নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পালন করে যাব, যতদিন হুমায়ূনভক্তরা থাকবে, নুহাশপল্লীর একটি কর্মীও থাকবে, আমার সন্তানরা থাকবে।’

শ্রদ্ধা জানাতে আসা একজন ভক্ত শওকত বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ তার বই, নাটক, সিনেমার মাধ্যমে বাঙালি পাঠক সমাজকে আনন্দ দিয়েছেন। তাকে স্মরণ করতেই প্রতি বছর এই নিভৃত পল্লীগ্রামে আসা হয়। সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে এ দেশের কোটি ভক্ত ও অনুরাগীদের হৃদয়ে হুমায়ূন আহমেদ চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’

উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আর ২০১২ সালে ১৯ জুলাই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত