ভূমি ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা জরুরি

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৮ এএম

আনোয়ারায় যত্রতত্র গড়ে উঠছে স্থাপনা। চলছে জমি কেনার হিড়িক। ব্যক্তিপর্যায় থেকে শুরু করে শিল্পপতি পর্যায় পর্যন্ত অনেকেই জমি কিনছে আবাসিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পায়নের জন্য। এতে এলাকা জুড়ে অপরিকল্পিত উন্নয়নের বিস্তার ঘটতে পারে। এ আশঙ্কা নগরবিদ ও অধিবাসীদের।

চট্টগ্রামে রিয়েল এস্টেট সেক্টরে সবার আগে অধিকসংখ্যক ফ্ল্যাট নিয়ে ইকুইটি ভিলেজ গড়ে তুলেছিলেন ইকুইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আইনুল হক। নগরীর অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে তিনি প্রায়ই কথা বলেন। এখন আনোয়ারা দিয়ে টানেল বের হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে সহজেই আনোয়ারা যোগাযোগ গড়ে উঠছে। ওয়ান সিটি টু টাউনের আদলে বেড়ে উঠবে চট্টগ্রাম। এ বিষয়ে কাজী আইনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আনোয়ারা হবে আগামীর অর্থনীতির সেতুবন্ধ। মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, বাঁশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকায় গড়ে উঠছে নানা উল্লেখযোগ্য স্থাপনা। তাই মধ্যবর্তী আনোয়ারায় গড়ে উঠবে আরেক শহর। এখনই এ শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে পরে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া পরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণ সম্ভব নয়।’

আইনুুল হকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে সিপিডিএলের প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘আনোয়ারায় ইতিমধ্যে আমরা কিছু প্রকল্প নিয়েছি। আরও কিছু প্রকল্প নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটা ঠিক আগামীতে আনোয়ারা হবে উল্লেখযোগ্য নগর। এখানে শিল্পায়ন যেমন বাড়বে, তেমনি আবাসন সুযোগও বাড়বে। এখনই এই এলাকা নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আনোয়ারায় পর্যটনশিল্প বিকাশের যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি আবাসন, বাণিজ্যিক ও শিল্পায়নেরও একটি মিশেল রয়েছে। তাই সমন্বয় জরুরি।’

এদিকে শাহ আমানত ব্রিজ থেকে আনোয়ারা হয়ে বাঁশখালী পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান জায়গা কিনছে। বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠছে আবাসন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ভারপ্রাপ্ত প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘সাঙ্গু নদীর মোহনা পর্যন্ত সিডিএর আওতাধীন এলাকা। আইন অনুযায়ী সিডিএর আওতাধীন এলাকায় যেকোনো স্থাপনা নির্মাণে সিডিএ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। একই সঙ্গে এসব এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনাও নিয়ন্ত্রণ করবে সিডিএ। আমরা পুরো এলাকাটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এনে উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজ করছি। আর তা করা গেলে সেই পরিকল্পনার আলোকেই স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে।’

মাস্টারপ্ল্যানে কোন বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে তা জানতে কথা হয় সিডিএর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও সংস্থাটির উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা আনোয়ারা এলাকায় কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করিনি। এখন টানেল হচ্ছে। এখন এই টানেলের সঙ্গে এলাকার অন্য রোডগুলোর সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন রোড নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব। যেসব এলাকায় রোড নেটওয়ার্ক থাকবে সেগুলোর প্রবেশযোগ্যতার বিবেচনায় বলে দেওয়া হবে ওই স্থানে কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না।’

উল্লেখ্য, সিডিএর ইমারত নির্মাণ আইনে সিডিএ আওতাধীন এলাকায় স্থাপনা নির্মাণে সিডিএ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। তাই ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এই সংস্থাটির হাতেই থাকছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত