অযত্নে মরছে গাছ দেখার কেউ নেই

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৩:২৭ এএম

ঢাকা শহরের সৌন্দর্যবর্ধন বা সবুজায়নের অন্যতম প্রশংসিত একটি উদ্যোগ ফুটওভারব্রিজে ফুলের গাছ লাগানো। প্রায় তিন বছর আগে কেইস প্রকল্পের আওতায় উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে পাল্টে যায় ফুট ওভারব্রিজগুলোর চিরাচরিত চেহারা। ফুলে আর সবুজে সুশোভিত ওভারব্রিজ দেখে তা ব্যবহারের অনীহা কিছুটা হলেও কমে পথচারীদের। কিছুদিন দেখভাল হলেও ফুট ওভারব্রিজগুলো আবার তাদের পুরনো চেহারায় ফিরতে শুরু করেছে। অযতœ আর অবহেলায় অধিকাংশ গাছই মরে গেছে। কয়েকটি ওভারব্রিজে গাছ থাকলেও বসন্তেও নেই ফুল। গাছের গোড়ায় আগাছা আর নানা আবর্জনায় ভর্তি।

গত রবিবার সরেজমিনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বেশ কয়েকটি ফুট ওভারব্রিজের বেহাল অবস্থা দেখা গেছে। নিউ মার্কেট, শাহবাগ, মৎস্য ভবন, কাকরাইল, পল্টন ও মতিঝিলের ১২টি ওভারব্রিজের মধ্যে ছয়টিতেই ফুলগাছগুলো মৃত দেখা যায়। নীলক্ষেত মোড়ের ওভারব্রিজে দুই পাশে ৯টি করে ১৮টি প্লাস্টিকের টবে গাছ লাগানো হয়েছে। বর্তমানে তিনটি টবের গাছ কোনোভাবে বেঁচে আছে। বাকি টবে মরা গাছের সঙ্গে ঝুলে আছে মরা ঘাসও। ওভারব্রিজের হকাররা টবগুলোকে ময়লার ফেলার ঝুড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন। নিউ মার্কেটের ওভারব্রিজেও কয়েকটি গাছ মরে গেছে। বাকি গাছগুলো কোনোভাবে বেঁচে থাকলেও ফোটেনি কোনো ফুল।

ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনের ওভারব্রিজটি একটু ব্যতিক্রম। সেখানে সবগুলো গাছই সজীব। অনেকগুলোতে ফুলও ফুটেছে। বেসরকারি একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে বিকেলে এখানে দাঁড়িয়ে সময় কাটাই। গাছ, ফুল, বাতাসÑ সব মিলে ভালোই লাগে। সব ওভারব্রিজ এমন হলে মানুষ ঠিকই ব্যবহার করত।’

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের ফুট ওভারব্রিজটিতে ২৪টি টবে গাছ লাগানো হয়েছিল। সবগুলো গাছই মরে গেছে। শিশু পার্কের সামনের ওভারব্রিজের কয়েকটি টবের গাছ মরে গেছে। জীবিতগুলোতে ফুল নেই। কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ওভারব্রিজের ৩৮টি টবের অর্ধেক গাছই মরে গেছে। মতিঝিল শাপলা চত্বরের ওভারব্রিজের অধিকাংশ গাছ জীবিত থাকলেও নটর ডেম কলেজ গেটের সামনের ওভারব্রিজের ৪০টি টবের অধিকাংশ গাছই মরে গেছে।

এ সম্পর্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রথমে ডিএসসিসির গণসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রকৌশল দপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। গত দুই দিন ধরে ফোন করলেও আসাদুজ্জামান ধরেননি। পরে প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে ফোন দিলে তিনি একটু পরে কল দিতে বলেন। পরে আর কল ধরেননি। এরপর প্রকৌশলী আবুল হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্যাপারটি আঞ্চলিক কর্মকর্তারা দেখভাল করেন।

অঞ্চল-১-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা কেইস প্রকল্পের আওতাধীন। প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্তই আমাদের দায়িত্ব ছিল। এরপর এগুলো তদারকির কাজ প্রকৌশল দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারাই এ সম্পর্কে বলতে পারবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত