আওয়ামী লীগের সমস্যার নাম অনুপ্রবেশকারী

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০১ পিএম

অনুপ্রবেশ শব্দটি আমাদের কাছে অজানা নয়। বেশ কয়েক বছর ধরে এই শব্দটি আমাদের কাছে বেশি পরিচিত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের রাজনীতিতে এই শব্দটি বিশেষভাবে পরিচিত। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এই অনুপ্রবেশ নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের কতিপয় নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যে প্রশ্ন তৈরি হয় তার পেছনে যে অনুপ্রবেশকারীরা রয়েছে তা আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতা সংগ্রামে পরাজিত শক্তি এবং সামরিক জান্তার উত্তরসূরিরা কখনো আওয়ামী লীগের ভালো চায়নি। তাই সব পরাজিত শক্তি এক হয়ে জোট গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে তাদের তৎপরতা সব সময় অব্যাহত রয়েছে। আর সেই ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগেরই পদ-পদবি নিয়ে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রণয়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পেরে ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছিল আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ২০০৮ এ পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশকে এগিয়ে নিতে থাকলে ষড়যন্ত্রকারীদের মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়।

২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি জামাত জোট জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি শুরু করে। আওয়ামী লীগ বুদ্ধিমত্তা, সহনশীলতা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করে রাষ্ট্রীয় কাজে মনোনিবেশ করলে ষড়যন্ত্রকারীরা ভিন্ন পথ অবলম্বন করে। কীভাবে আওয়ামী লীগের কাছে ভিড়তে হবে সেই পথ বেছে নেয় তারা। সময়-সুযোগ বুঝে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে ভিড়তে থাকে। আর এতে তারা সহযোগিতা পায় আওয়ামী লীগেরই বিভিন্ন স্তরের নেতাদের।

আওয়ামী লীগ নেতাদের হাত ধরে যে হারে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদান করছে, তাতে মনে হয় আগামী কয়েক বছরে সব জামায়াত-বিএনপি আওয়ামী লীগ হয়ে যাবে। দেশের সচেতন নাগরিকদের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে।

যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর দেশের যে কয়েকটি স্থানে বেপরোয়া নাশকতার ঘটনা ঘটে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও সাতক্ষীরা। এ তিন জেলায় নাশকতা মামলার একাধিক অভিযুক্ত জামায়াত-শিবির নেতা বর্তমানে আওয়ামী লীগে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জামায়াত থেকে যারা ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে তাদের একটি অংশ দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের পদ-পদবি পেয়েছে। যারা পদ-পদবি পায়নি তাদের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সূত্রে দেখা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে ৬২টি যোগদানের ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যার দিক দিয়ে যোগদানে বিএনপির সংখ্যা বেশি হলেও জামায়াত থেকে যোগদান করা নেতা-কর্মীদের সংখ্যা সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার। ইতিমধ্যে যোগদান করা এসব জামায়াত-শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের পদ-পদবি পেয়েছে। যার পরিমাণ ৪ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও তৃণমূলে কেন এই বার্তা ঠিকমতো কাজ করছে না তা বোধগম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে সামনে আওয়ামী লীগের জন্য আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে এটা সহজেই বোঝা যায়। শুদ্ধি অভিযান যতই চলুক দলে অনুপ্রবেশ রোধ করতে পারলে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের ভাবমূর্তি ঠিক থাকবে বলে মনে হয়।

শামসুল ইসলাম সহিদ: সাংবাদিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত