মনোনয়ন বোর্ডের সভা

আ.লীগে নতুন মুখের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪৬ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় প্রার্থী বাছাই করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। যে বাছাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ছেন বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন বর্তমান সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তবে বিজয়ী হওয়ার মতো সাংগঠনিক ভিত্তি থাকায় বিতর্কিত কয়েকজন ছাড় পেয়েছেন। গত দুটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরিবর্তন তেমন করেনি। সে তুলনায় এবারের নির্বাচনে নতুন মুখের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে বলে গতকাল শুক্রবার মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই রয়েছেন আওয়ামী লীগের এমপি। এ পাঁচটির মধ্যে দুটিতেই বর্তমান এমপিকে বাদ দিয়ে নতুন দুজনকে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের দুই সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বরিশালের ওই দুই বর্তমান এমপির মধ্যে একজনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের একটি সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ দুই পদের একটিতে থাকলেও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পদ হারান। তার আসনে আওয়ামী লীগের একজন নারী নেতা মনোনয়ন পেয়েছেন। বরিশালের আরেকটি আসনের বর্তমান এমপি, যিনি একসময় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে ছিলেন। গতবারই তিনি দলীয় মনোনয়ন পান। এরপর তার বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সংবাদ সম্মেলনও করেন। এবার জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাকে ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যশোর জেলার একটি আসনের বর্তমান এমপি বাদ পড়েছেন। মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্যের নিকটাত্মীয় ওই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।

ঢাকার একটি আসনে ব্যবসায়ীকে বাদ দিয়ে একজন চলচ্চিত্র অভিনেতাকে, আরেকটি আসনে বাবার (আইনি কারণে) পরিবর্তে ছেলেকে আনা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে সাবেক (দশম) সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুরে একটি আসনে সাবেক সাংসদ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, আরেকটি আসনে জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকায় জাতীয় পার্টির একটি আসনে একজন সাবেক মেয়রকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আরেকটি আসনে দলীয় এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে জোটের প্রার্থীকে নিজ এলাকা বরিশাল অঞ্চলে দেওয়া হতে পারে। গত নির্বাচনেও ওই আসনটি জোটকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

কুষ্টিয়ার একটি আসনে নতুন প্রার্থী আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় নতুন প্রার্থী মনোনয়ন পাচ্ছেন। শেরপুর জেলাতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে। বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো কোনো আসনে মনোনয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা বর্তমান এমপির নাম আলাদা ফাইলে রাখছেন বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা। ভোলা জেলায়ও নতুন মুখ মনোনয়ন পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার আগপর্যন্ত কাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। কারণ অতীতে নাম ঘোষণার পরও প্রার্থী বদলানো হয়েছিল। আবার বাদ পড়াদের কাউকে কাউকে ফেরানোও হয়েছিল। এবারও কয়েকটি আসনের ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে।’

মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে বর্তমান এমপি ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঠের অবস্থান ও জনপ্রিয়তার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যেসব এমপির আচরণ রাজনৈতিক নয়, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পাশাপাশি দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করে দলকে দুর্বল করেছে, এলাকায় যাতায়াত নেই এবং বয়সী হওয়ার কারণে চলাচল করতে পারছেন না এমন কয়েকজন এমপি বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত নানা অভিযোগে অভিযুক্ত কিন্তু বিজয় সুনিশ্চিত এমন কিছু প্রার্থীকে বিশেষ বিবেচনায় আবারও মনোনীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, নিয়মিত এলাকায় যাতায়াত করেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত নন নতুন মুখের ক্ষেত্রে এসব কিছু বিবেচনা করা হয়েছে।

গতকাল সকাল ও বিকেল দুই দফায় নৌকার মাঝি নির্ধারণ করতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা বসে। এ সভায় খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৮১টি আসনে নৌকার প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ৭২টি আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। তবে চূড়ান্ত কোনো প্রার্থীরই নাম ঘোষণা করা হয়নি। আজ শনিবার ৩০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করে নাম ঘোষণা হবে।

বাদ পড়াদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে তারা ইলেকটেবল না। উইনেবল না। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। জনগণের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্য নেই, তাদের আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি না। এর মধ্যে নতুনরাও আছে। নির্বাচনে জিততে পারে, সেটা পুরুষ হোক আর নারী হোক, আমরা তাদের মনোনয়ন দেব।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমরা মনোনয়নের ব্যাপারটা সুনির্দিষ্ট করে এখন বলছি না, কারণ এর মধ্যে আমরা যেসব প্রার্থী দিয়েছি, সেসব মনোনয়নে ভুলত্রুটিও থাকতে পারে। সেটাও আমাদের সংশোধনের একটা সুযোগ রেখেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত