অতিরিক্ত সব কিছুর মতো অতিরিক্ত ওজনও সমস্যাজনক। বাড়তি ওজনের কারণে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়, রোগ-ব্যাধির আক্রমণ বাড়ে। ডায়বেটিস, হৃদরোগের পরম বন্ধু বাড়তি ওজন। এছাড়া যাদের ওজন বেশি তাদের ক্লান্তি, ব্যথা ইত্যাদিতে বেশি ভুগতে দেখা যায়। ওজন বাড়তে থাকলে দুশ্চিন্তার পরিমাণও বাড়তে থাকে। সুস্থতায় জরুরি ব্যক্তির উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ওজন ধরে রাখা। হুট করে খাওয়া-দাওয়া একবারে ছেড়ে দিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা ভাল নয়। ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হল ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো।
এক মাসে ৫ কেজি ওজন কমানো সম্ভব। তবে এ জন্য সবার আগে নিজের মনকে প্রস্তুত করতে হবে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির দেহের মেটাবলিজম সিস্টেম বা বিপাক ক্রিয়া আলাদা। তাই কার জন্য কোন ডায়েট প্রযোজ্য, এটার জন্য আগে তার বয়স, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের সিস্টেম বিশ্লেষণ করা জরুরি।
তবে সাধারণভাবে কেউ যদি এক মাসে ৫ কেজি ওজন কমাতে চান, এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে দেখতে পারেন:
১. দুপুরের খাবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে খাবেন। খাবারের আধা ঘণ্টা আগে ২ গ্লাস পানি খাবেন।
২. খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাবেন। অন্তত ২০ মিনিট সময় নিয়ে খাবেন।
৩. প্রতিদিন আনারস ও আঙুরের রস খাবেন।
৪. দৈনিক কমপক্ষে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটবেন।
৫. শর্করার জায়গায় প্রোটিন খাবেন।
৬. ফাইবার বা আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাবেন।
৭. আট ঘণ্টা পরিপূর্ণ ঘুম।
৮. সকালে খালি পেটে আর বিকালে চিনি ছাড়া গ্রিন-টি খাবেন।
৯. সালাদ ওজন কমাতে সাহায্য করে। সালাদ তৈরির সময় উপকরণের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সালাদে মেয়নেজ না রাখাই ভাল।
যেসব খাবার খাবেন এড়িয়ে যাবেন
চিনি, বার্গার,চিপস, আইসক্রিম, যেকোনো ধরনের ফাস্ট ফুড, মিষ্টি বেশি দেওয়া চকলেট, ভাত, সাদা আটা–ময়দা, সোডা, কেক, ডোনাট, কোমল পানীয় যেমন-কোকাকোলা, পেপসি ইত্যাদি, অস্বাস্থ্যকর তেল, চর্বি। যদি চার সপ্তাহ এ খাবারগুলো না খেয়ে থাকতে পারেন, তাহলে আপনার শরীর ধীরে ধীরে এসব খাবারের প্রতি ‘চাহিদা’ কমিয়ে দেবে।
নির্দিষ্ট সময়ে, পরিমিত খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণ মেনে চলুন। ওজন কমাতে চাইলে আপনার খাবারের পরিমাণ কেমন হবে এবিষয়ে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে নিন।
