চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট: তপ্ত পথে সীমাহীন দুর্ভোগ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২২ পিএম

বাসচাপায় দুই সহপাঠীর মৃত্যুর জেরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা বাস পোড়ানোর প্রতিবাদসহ চার দাবিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘট চলছে। 

বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণপরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা এই অবরোধ শুরু হয়েছে আজ রবিবার (২৮ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে। আগামী মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে এই ধর্মঘট। ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

ধর্মঘটের সমর্থনে মহানগরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। সকাল থেকে নগরের অক্সিজেন মোড়, বহদ্দারহাট, অলংকার মোড় ও কাপ্তাই সড়কের মোড়ে মোড়ে সমাবেশসহ নানান কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি।

অক্সিজেন মোড়ে সমাবেশে মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহাজাহান, রুহুল আমিন, মনসুরুল আলম ও ফারুক খান বক্তব্য দেন। গণপরিবহণ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহাজাহান অভিযোগ করে বলেন, বাধ্য হয়ে আমরা পরিবহন ধর্মঘট পালন করছি। কোনো কিছু হলেই সব দোষ যেন গণপরিবহনের।

রবিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সরেজমিন নগরের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। বন্ধ আছে তিন পার্বত্য জেলার রুটে বাস চলাচল। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন মোড়ে গন্তব্যমুখী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

দেখা গেছে, ধর্মঘটের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও বান্দরবান এবং কক্সবাজারমুখী যাত্রীরা কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর মুখে ভিড় করছেন সকাল থেকেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন তারা। সেখানেই দেখা হলো যাত্রী আবুল কাশেমের সঙ্গে। তিনি দুই সন্তানসহ সাতকানিয়া যাবেন। কিন্তু সেতু এলাকায় এসে দেখেন, গাড়ি চলছে না। ফলে তিনি বিপাকে পড়েন। ‘আগে জানতাম না বাস চলবে না। এখন বাচ্চা দুটি নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না' বলেন আবুল কাশেম।

অক্সিজেন বাস স্টান্ডে হিমাদ্রি চাকমা নামে এক যাত্রী বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে আমার খাগড়াছড়ি যেতে হবে। কিন্তু যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পার্বত্য এলাকার  রুটের বাস চলাচল সকাল থেকে বলেন বিপদে পড়ে গেলাম। প্রচণ্ড গরমে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’

এর আগে বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভায় শনিবার (২৭ এপ্রিল) এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চার দফা দাবিগুলো হলো-সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই পরিবহন শ্রমিকদের গ্রেপ্তার বন্ধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মহাসড়ক ও সড়কে অননুমোদিত যান চলাচল বন্ধ ও পুড়িয়ে ফেলা বাসের ক্ষতিপূরণ এবং অগ্নিসংযোগকারীদের গ্রেপ্তার।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আগামী ১১ মে পর্যন্ত চুয়েট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে চুয়েট সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত