ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে নিয়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্তে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার লাশ উদ্ধার হয়নি। তদন্তকারীদের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সোনা চোরাচালান ও হুন্ডির দেড়শ কোটি টাকার বিরোধের জের ধরে সংসদ সদস্য (এমপি) আনারকে খুন করা হয়েছে। ছয় মাস আগে রাজধানীতে খুন ও লাশ গুমের বিস্তারিত পরিকল্পনা হয়। নজিরবিহীন এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলো নিশ্চিত হয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, এমপি আনার খুনে সরাসরি জড়িত সন্দেহে তারা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। তারা হলেন আমানুল্লাহ সাঈদ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, সেলি নিস্কি ওরফে সেলিস্থিয়া ও ফয়সাল।
গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আমান জানিয়েছেন, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার জন্য পাঁচ কোটি টাকা দিতে চেয়েছিলেন আক্তারুজ্জামান শাহীন। হত্যাকাণ্ডের আগে তাকে কিছু টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকা দেওয়ার কথা ছিল হত্যাকাণ্ডের পর।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ঢাকায় এসে মোহাম্মদপুরের বোনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন আমান। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে মূল ঘাতক শিমুল ওরফে আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, তারা গত ৩০ এপ্রিল কলকাতায় যান। পেশাদার অপরাধী সিয়াম, জাহিদ ওরফে জিহাদ ও ফয়সালকে সঙ্গে নেন। আনারকে হত্যার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়ার কথা। হত্যাকাণ্ডের আগে তাকে কিছু টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকা দেওয়ার কথা ছিল হত্যাকাণ্ডের পর। হত্যার পর ঢাকায় এসে শাহীনের সঙ্গে দেখা করেন আমান। ঢাকায় এসে মোহাম্মদপুরে বোনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আনার খুনের ঘটনায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান শাহীন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে টেলিফোনে একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আনার হত্যার সময় বাংলাদেশে ছিলেন তিনি। পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি। শাহীন বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনার সময় আমি ভারতে ছিলাম না। আমার আইনজীবী বলেছেন, এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা না বলতে। মানুষ দেশে অনেক কথাই বলে। যদি কোনো প্রমাণ থাকে তাহলে দেখাক।’
কাঁদতে কাঁদতে শিলাস্তি বললেন ‘আমি কীভাবে আসামি হই’
এমপি আনার হত্যায় গ্রেপ্তার তিন আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে
ব্রিফকেসে করে যেভাবে আনারের মরদেহ বাইরে আনা হয়