নার্সারি থেকে সতেজ সুস্থ চারাগাছ নিয়ে এসে নিয়ম মেনে রোপণও করলেন কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মারা যাচ্ছে বা চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। জেনে নিন কীভাবে যত্ন নেবেন।
চারা গাছ রোপণ করার জন্য গাছের চারপাশে বড় গর্ত করতে হবে। যার আকার চারা গাছের শেকড়ের চেয়ে যেন প্রায় দুই গুণ বড় হয়। যেহেতু শেকড় খুব নরম থাকে তাই শেকড় বৃদ্ধির জন্য টবের মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গা থাকা দরকার। এক্ষেত্রে গর্ত কতটা চওড়া হবে তার চেয়ে গর্তের গভীরতার দিকে লক্ষ রাখুন। লক্ষ রাখুন চারাগাছের শেকড়ের কোনো অংশ রোপণ করার সময় আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। শেকড় যদি খুব বেশি শুকিয়ে যায়, তাহলে তা পানি ধরে রাখতে পারে না। তাই রোপণের আগে কিছুক্ষণ পানিতে রেখে দিন। যাতে গাছের শেকড় অনেকটা পানি টেনে নিতে পারে।
মাটির সঙ্গে গোবর, শাক-সবজির খোলা পচা, চায়ের পাতাকে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কমবে। মাটিতে যদি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে চারাগাছ মরে যেতে পারে। বেলেমাটি হলে ভালো হয়। এই মাটি শেকড়ের আর্দ্রতাকে ধরে রাখতে পারে।
পানি দেওয়ার সময় গাছের গোড়ায় দেওয়ার চেষ্টা করুন। গোড়ায় পানি দিলে শেকড় তাড়াতাড়ি মাটির ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। চারাগাছের মাটি যেন কখনোই খুব বেশি শুকিয়ে না যায়। আবার অতিরিক্ত পানিও কিন্তু দেওয়া যাবে না। গাছের গোড়ায় যদি পানি দাঁড়িয়ে যায়, তাহলেও শেকড় পচে যেতে পারে। প্রত্যেক গাছের পানির চাহিদাও ভিন্ন। তাই গাছের প্রকৃতি ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে পানি দিন।
গাছের লাগানোর জায়গা এমন স্থানে নির্বাচন করুন যেন দিনে অন্তত বেশ কিছুক্ষণ সে সূর্যালোক পায়। তবে বেশি সূর্যালোকে অনেক সময় চারা গাছের পাতা ঝলসে যেতে পারে। তাই রোদ-ছায়া যুক্ত স্থান বেছে নিন। ড্যামযুক্ত স্থানে চারাগাছ রাখলে মাটিতে ছত্রাক বা শ্যাওলার জন্ম হয়। তাই ড্যাম আছে এমন জায়গাতেও রাখবেন না।
ঘরের গাছে রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহার করতে পারলে ভালো। এক্ষেত্রে চায়ের লিকার ও হাড়ের গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন।
