গ্রেপ্তার ১৭০

চট্টগ্রামে ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ফেলে হত্যাচেষ্টা, আরও এক মামলা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষের মধ্যে নগরের মুরাদপুর এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ফেলে দিয়ে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে পাঁচলাইশ থানায় ছাত্রলীগের এক কর্মী বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নগর পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, গত ১৬ জুলাই বিকালে সংঘর্ষের মধ্যে মুরাদপুরে ছাত্রলীগ কর্মীদের ছাদ থেকে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নতুন করে একটি মামলা হয়েছে। এর আগে দুটি মামলা হয়েছিল। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের মুরাদপুরে আন্দোলন চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। সেদিন ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ পরিচয়ধারী চার যুবক প্রকাশ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় পুলিশ ছিল নীরব। তারা কোনো অ্যাকশনে যায়নি। সেদিন ছুরিকাঘাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই শিক্ষার্থী এবং নিরীহ এক পথচারী মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রটি আরও জানায়, মুরাদপুর বেলাল মসজিদের পাশে ‘মিরদাদ ম্যানশন’ নামে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ইট, পাথর ও ফুলের টব ছুড়ে মারেন। এ সময় কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারী বেশ কিছু শিক্ষার্থী ওই ভবনটি ঘিরে ফেলেন। তারা ভবনে উঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পিটুনি দেন।

এক পর্যায়ে  ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভবনটির ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন। প্রাণভয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাদ থেকে পানির পাইপ ও কার্ণিশ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকেন। এ সময় ছাত্রলীগের ২/৩ জন কর্মী নিচে পড়ে যান। এর আগে ছাদে আটকে পড়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বেধড়ক পিটুনি দেয় তারা। এ ঘটনায় অন্তত ১৫/২০ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ছাদে আটকে পড়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাদে পড়ে আছেন। হামলার মুখে ছাদ থেকে ওই ভবনের পিছনের অংশের কার্নিশ ও পানির পাইপ বেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নেমে আসার চেষ্টা করছেন। এ সময় ২/৩ জনকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুজন এখন ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন যুবলীগ কর্মী মো. সোহেল (২৮) ও মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী জালাল উদ্দিন জুবায়ের (২২)। আরেকজন গুরুতর আহত যুবলীগ কর্মী  মো. ইকবাল হোসেন (২৪) এই হাসপাতালের আইসিইউ থেকে অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘১৬ জুলাই বিকালে কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মুরাদপুরের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ফেলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নতুন করে আরও একটি মামলা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় আরও দুটি মামলা দায়ের করে ছাত্রলীগ। এসব মামলায় শনিবার পর্যন্ত ১৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি সাংবাদিকদের বলেন,  ‘সেদিন বিভীষিকাময় এক পরিস্থিতিতে পড়ে আমরা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য চেয়েও পাইনি। রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা যদি আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে না আসতেন তাহলে অবস্থা যে কী হত তা বলতে পারছি না। সেদিন লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে শিবির ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। তারা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ছাত্রলীগ কর্মীদের ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। ফেলে দেয়ার পরও আহত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পিটিয়েছে তারা।’

ঘটনার পরদিন ১৭ জুলাই দুপুরে মুরাদপুর এলাকার সেই ভবনটি পরিদর্শনে যান নগর পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত