গান শুনলেই মন শান্ত হয়। বিষন্নতা কেটে যায়। গান শোনার উপকারিতা যে কত, তা একবাক্যে স্বীকার করেন চিকিৎসকরা। ঘুম আনতে সহায়তা করে। তাই তো পৃথিবীব্যাপী দিন দিন মিউজিক থেরাপি জনপ্রিয় হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত গান শুনলে মন এবং মস্তিষ্কের ভেতরে ‘সুখী’ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে শরীরের তো বটেই, মনের অসুখ-বিসুখও কাছ ঘেঁষতে পারে না। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চাবিকাঠিও আছে গানের মধ্যে।
গান শোনার উপকারিতা
উদ্বেগ কেটে যায় : গানের সুর মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অবধি পৌঁছায়। এটিই হলো সব আবেগের কেন্দ্র। গানের সুরে হাইপোথ্যালামাস উদ্দীপিত হয়, কর্টিসল নামে ‘স্ট্রেস হরমোন’-এর ক্ষরণ কমে যায়। অতিরিক্ত উৎকণ্ঠাও বশে আসে। ফলে মনের যত রোগব্যাধি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
রক্তচাপ কমে : হৃৎস্পন্দন, নাড়ির গতি ও রক্তচাপ যদি বেড়ে যায়, তাহলে তা কমতে পারে গান । দীর্ঘমেয়াদি অসুখের প্রকোপ থেকে রেহাই দেয় গান। কারণ মন যত ভালো
থাকবে, সুখী হরমোনের ক্ষরণ যত বাড়বে, ততই শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে। শরীরে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রাও ঠিক থাকবে।
ঘুম ভালো হয় : পছন্দের গান দিনে দুই থেকে তিনবার মিনিট ১৫ করে শুনতে হবে। একটানা শুনতে পারলে ভালো। না হলে খাওয়ার সময়, কাজের ফাঁকে, ঘুমানোর আগে শুনতে পারেন। হালকা সুরই শুনতে হবে। চিকিৎসকরা বলেন, গানের সুরে ঘুম ভালো হয়। ঘুমের সময় মাথায় হাবিজাবি চিন্তা, উদ্বেগ আসে না।
ব্যথা বেদনা কমে : রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো কষ্টকর অসুখেও বিশেষ ভূমিকা আছে গানের। তাই তো এখন মিউজিক থেরাপির দিকে এত জোর দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। কেবল মনের চাপ কমানো নয়, বাতের ব্যথা-বেদনায় কাতর রোগীকেও আরাম দিতে পারে গান।
স্মৃতিশক্তি বাড়ায় : গান শুনলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল সক্রিয় হয়। স্নায়ুর চাপ কমে। স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ে। যেকোনো কাজেই উৎসাহ পাওয়া যায়।
একাকিত্বের সঙ্গী : একাকিত্বের সঙ্গী হতে পারে গান। একা কোনো সফরে থাকলে অথবা দীর্ঘ পথযাত্রায় মন ভালো রাখে গান। কোনো কারণে অবসাদ হলে অথবা অনেকের মাঝেও একা বোধ হলে গান শুনুন। নিমিষে মনের মেঘ কেটে যাবে।
