কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের

  • কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনে এলে এ কথা বলেন তিনি
  • এ সময় ট্রুডো শুল্ক বেশি হলে কানাডার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা জানান
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:০৮ পিএম

বিভিন্ন সময়ে নানা বেফাঁস মন্তব্য আর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বেশ সমালোচিত যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবন মার-এ-লাগোতে এলে এ কথা বলেন তিনি। 

সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ব্যর্থ হলে কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। ওই শুল্ক ইস্যুতে কথা বলতে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) অঘোষিত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

সফরকালে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ট্রুডো শুল্ক এত বেশি হলে কানাডার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বাণিজ্য ও অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কানাডার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন জাস্টিন ট্রুডো।

এসময় ট্রাম্প জাস্টিন ট্রুডোকে বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত শুল্কও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সমস্যা সমাধান না করে কানাডার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলে, তাহলে কানাডার উচিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়া।’

ট্রাম্প আরো বলেন, কানাডা ৭০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীসহ সীমান্ত দিয়ে প্রচুর পরিমাণে মাদক এবং লোকদের ঢুকতে দিয়েছে। ফলে মার্কিন সীমান্ত সুরক্ষা হচ্ছে না।

তিনি কানাডার সাথে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। এই ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে জানান ট্রাম্প।

এর আগে নবনির্বাচিত এ প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন যে, ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন। সেখানে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ করারোপ করা হবে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, নির্বাহী আদেশে জারি করা ২৫ শতাংশ করের ওপর বাড়তি আরও ১০ শতাংশ করারোপ করবেন অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ওপর। যার ফলে চীন থেকে মার্কিন বাজারে আসা পণ্যের ওপর শুল্ক দাঁড়াবে ৩৫ শতাংশ। বেইজিং মার্কিন বাজারে সিন্থেটিক ওপিওড ফেন্টানাইলের চোরাচালান বন্ধ করার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্প যদি সত্যিই এমন নির্বাহী আদেশ জারি করেন তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম তিন বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে দেশটির বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবে। এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মেক্সিকো ও কানাডার বাণিজ্য চুক্তির লঙ্ঘন করবে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত