খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে নেতৃত্বের কোনো পরিবর্তন আসেনি বিগত ১৫ বছরে। এই সময় হয়নি কোনো নির্বাচন। নির্বাচনী সভায় বসে আঙ্গুলের ইশারায় নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে ভাঙতে যাচ্ছে সেই অচলায়তন। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে হতে যাচ্ছে নির্বাচন। ঘোষণা করা হয়েছে নির্বাচনী তফসিল। নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছে ব্যবসায়ীদের। নিজেদের স্বার্থেই নতুন নেতৃত্ব চান তারা।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সোমবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ চলবে। প্রথমদিন কেউ মনোনয়ন ফরম না কিনলেও মঙ্গলবার বিভিন্নপদে ২৬টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। আগামী ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই, ১০ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাহার ও ১২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সহকারী নির্বাচন কমিশনার ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই সদস্য নবায়ন ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে মোট ৬৩০ জন ভোটার রয়েছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টরের একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০০৭ সালে ব্যবসায়ীরা এ সংগঠন গড়ে তুললেও ইতিপূর্বে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে আঙ্গুলের ইশারায়। একই ব্যক্তিকেই বার বার শীর্ষ পদে রেখে নিজেদের মধ্যে পদ ভাগাভাগি করা হয়েছে। এর ফলে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি একটি অকেজো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীরা নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি সোলায়মান বাদশা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোগ্যপণ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ একসময়ে পুরো দেশে শীর্ষে ছিল। একে বলা হত প্রাচ্যের ‘ওয়াল স্ট্রিট’। কিন্তু কালক্রমে ব্যবসায়িক জৌলুস হারিয়েছে খাতুনগঞ্জ। এখান থেকে ব্যবসা চলে গেছে অন্যত্র। একসময় এখানে দিনে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলেও তা এখন নেমে এসেছে একশ থেকে দেড়শ কোটিতে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই এমনটি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর বিগত ১৮ বছরের মধ্যে প্রথম বার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যরকম আমেজ তৈরি হয়েছে। আশা করছি এর মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীরা যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে সক্ষম হবেন।
২০০৭ সালে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সভাপতি করা হয় মোস্তফা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান হেফাজতুর রহমানকে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পারন করেন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ সগির আহমদ। ২০০৯ সালে এসে সভাপতি মনোনীত করা হয় মাহবুবুল আলমকে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে যান আগেরজন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই দুই পদে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কমিটি গঠনের জন্য সভা ডাকা হত আর প্রতিবার তাদের নামই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করা হত।
এমনকি মাহবুবুল আলম চার দফা চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি হলেও খাতুনগঞ্জ ট্রেডের সভাপতির পদ ছাড়েননি। ২০২৩ সালে তাকে এফবিসিসিআই সভাপতি করা হলে তিনি বাধ্য হয়ে খাতুনগঞ্জ ট্রেডের সভাপতির চেয়ার ছাড়েন। এরপর বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। তবে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না এদের কেউই। শীর্ষ দুই পদসহ বিভিন্ন পদে প্রার্থী হবার জন্য ইতিমধ্যে একাধিক ব্যবসায়ী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১৮ বছর খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দ সগির আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীরা চেয়েছেন বলেই দীর্ঘ সময় এসোসিয়েশনের দায়িত্ব পালন করেছি। কাজ করেছি খাতুনগঞ্জের ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে। তবে এবারের নির্বাচনে আমি প্রার্থী হচ্ছি না। আমিও চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক। ব্যবসায়ীরা ভোট দিয়ে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচিত করুন।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সহকারী নির্বাচন কমিশনার জামাল হোসেন জানান, এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৪১টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, পুরাতন ও নতুন মিলে এবার মোট ৬৩০ জন সদস্য ভোটার হয়েছেন। ভোট প্রদানের জন্য প্রত্যেককে ভোটার আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে।
মনিরামপুরে ট্রাকচাপায় নিহত ২
জনগণের বিপক্ষে কাজ করলে ৫ আগস্টের মতোই পরিণতি হবে