চসিকের অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে শনিবার

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৩৬ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে পর্দা উঠছে চট্টগ্রামের বইমেলার। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম মাঠে ১৪০টি স্টল নিয়ে জমজমাট আসর বসবে অমর একুশে বইমেলার। আর এবার মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে দৃষ্টিনন্দন ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে বইমেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। 

তিনি বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিপ্লবের তীর্থভূমি বীর চট্টগ্রাম। সৃজনশীল, মননশীল, বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়তে এ বইমেলা বড় ভূমিকা রাখবে।  এবার মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে দৃষ্টিনন্দন ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’। এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত থাকবে। মেলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সার্বিক সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মেলা কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকবে। আশা করি এই মেলায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের লেখক-পাঠক ও সৃজনশীল নাগরিকদের অংশগ্রহণে সংস্কৃতি ও মননের উৎকর্ষের পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটবে। এ ছাড়াও জাতীয় জীবনে যেসব ব্যক্তি কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাদের একুশে সম্মাননা স্মারক পদক ও সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হবে।’ 

চট্টগ্রামের পাশাপাশি মেলায় অংশ নিবে ঢাকার অভিজাত প্রকাশনী সংস্থাগুলোও। তাদের জন্য স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় বইমেলার উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন গৃহায়ন, গণপূর্ত ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। চসিকের আয়োজনে ২০১৯ সাল থেকে সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রামে ‘অমর একুশে বইমেলা’হয়ে আসছে। এবার ২৬ দিনব্যাপী এ বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ বইমেলার পর্দা নামবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মাসব্যাপী বইমেলার অনুষ্ঠানমালায় যা রয়েছে- রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, শিশু উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, ছড়া উৎসব, কবিতা উৎসব, মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারির আলোচনা, লোক উৎসব, তারুণ্য ও ছাত্র সমন্বয় উৎসব, নারী উৎসব, বসন্ত উৎসব, মরমী উৎসব, আবৃত্তি উৎসব, নৃগোষ্ঠী উৎসব, পেশাজীবি সমাবেশ, কুইজ প্রতিযোগিতা, চাটগাঁ উৎসব, বইমেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
 
মেলায় প্রতিদিনের বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় দেশের প্রথিতযশা লেখক-কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন। প্রতিবারের মতো এবারও মেলায় থাকছে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ ও সেলফি কর্ণার। এ ছাড়াও নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ৫২’র ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার আন্দোলনের ওপর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত