ব্রণের সমস্যা সমাধানে যা যা করণীয়

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম

আজকাল বেশিরভাগ কৈশোরপ্রাপ্ত ছেলে-মেয়েদের ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত বয়ঃসন্ধির সময় এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনও বয়সেই হতে পারে এই সমস্যা। 

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ১৫ বা ১৬ বছর বয়সের পরে ব্রণের সমস্যা হয়। আজকাল অবশ্য ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যাটি অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে আবার যাদের ত্বক তৈলাক্ত ধরনের, তাদের ক্ষেত্রে ব্রণের সমস্যা বেশি হতে পারে। আমাদের ত্বকে যখন অতিরিক্ত পরিমাণে সেবাম উৎপাদন হয় তখন ত্বকরন্ধ্র বদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্রণ দেখা দেয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্রণ দূর করার উপায়- 

তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ

ব্রণ দূর করার জন্য প্রথমে মুখের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রয়োজন নিয়ম করে মুখ পরিষ্কার করাও। যতকিছুই ব্যবহার করুন না কেন, মুখ যদি পরিষ্কার না থাকে তাহলে কোনো লাভ মিলবে না। তাই সবার আগে মুখের তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 

চিপস এবং স্ন্যাকস

৮ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের কখনই প্যাকেটজাত চিপস এবং এরকম নোনতা ধরনের খাবার খাওয়ানো উচিত নয়। শিশু চিকিৎসকদের মতে, এই জিনিসগুলির অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং এই জিনিসগুলি ফোলাভাবও সৃষ্টি করে। 

ব্রেড

ব্রেডে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণ হয়। এই কারণে, শরীরে তেল তৈরি হয়। ফলে তৈলাক্ত ত্বকের কারণে ব্রণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ জাতীয় খাবারের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। 

চকোলেট, কেক এবং কুকিজ

শিশুরা চকোলেট খেতে খুবই পছন্দ করে। যতটা সম্ভব তাদের চকলেট, কেক এবং কুকিজ খাওয়ানো বন্ধ করে দিন। এই খাবার খাওয়ার ফলে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। ইনসুলিন স্পাইকের কারণে ত্বকের প্রদাহের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি আপনার সন্তান মিষ্টি খেতে পছন্দ করে, তাহলে আপনি বাড়িতে কিছু স্বাস্থ্যকর তৈরি করে তাদের খাওয়াতে পারেন।

কোমল পানীয়

ছোটরা কোমল বা ঠান্ডা পানীয় খেতে খুবই পছন্দ করে। কিন্তু এ ধরনের পানীয় নিয়মিত সেবন করলে তাদের স্বাস্থ্য এবং ত্বকের উপর খুব খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এই ধরনের পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন এবং চিনি থাকে, যার কারণে এটি আপনার শরীরের হরমোন গুলিকে ব্যাহত করে।  

চন্দন ব্যবহার

চন্দনের রয়েছে অনেক গুণ। ত্বক ভালো রাখতে এটি বিশেষভাবে কার্যকরী। ব্রণের সমস্যা দূর করতে চাইলে চন্দন ব্যবহার করতে পারেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্রণ দূর করতে সাহায্য করবে। চন্দনের সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রণে লাগান। 
এতে উপকার পাবেন।

হলুদের ব্যবহার

ত্বকের যত্নে হলুদের উপকারিতার কথা সবারই জানা। ব্রণ দূর করার ক্ষেত্রেও হলুদ অত্যন্ত কার্যকরী। হলুদের সঙ্গে সামান্য চন্দন এবং পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

নিমের পেস্ট ব্যবহার

নিমপাতা নানা ধরণের সংক্রমণ রোধে কাজ করে। এই পাতার তৈরি পেস্ট ব্রণের উপর লাগালেও মিলবে উপকার। আবার চাইলে এর সঙ্গে অ্যালোভেরাও যোগ করতে পারেন। নিমপাতার সঙ্গে অ্যালোভেরা যোগ করে নিন ভালোভাবে। এরপর সেই মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে নিন। 

তুলসী পাতার ব্যবহার

তুলসী পাতা কেবল শরীর সুস্থ রাখতেই কাজ করে না, এটি ত্বক ভালো রাখতেও কাজ করে। ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন এই পাতা। তুলসী পাতা বেটে নিন। এরপর তার সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে নিন। নিয়মিত এভাবে ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত