লামিন ইয়ামাল- ১৭ বছরেই 'বিশ্বসেরা'

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৫, ১২:২৬ পিএম

লামিন ইয়ামালের বয়স মাত্র ১৭, এবং কখনও কখনও—যখন সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল করছে না, ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করছে না, বা বার্সেলোনাকে লা লিগার শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছে না—তাকে একজন টিনএজারের মতোই লাগে। দাঁতে এখনো ব্রেস লাগানো তার। মাধ্যমিকের রেজাল্টের জন্য এখনো অপেক্ষায় তিনি। তার উচ্ছল, কিশোরসুলভ হাসিতে যেন বয়সেরই প্রতিচ্ছবি।

তার দাতে এখনো ব্রেস লাগানো

কিন্তু আবার কখনও কখনও, যেমন মঙ্গলবার রাতে, তাকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের মতোই মনে হয়।

কারণ, ১৭ বছর বয়সেই হয়তো তিনি সেরা হতে চলেছেন। এটা এখন আর বাড়াবাড়ি নয়। মঙ্গলবার রাতের পারফরম্যান্সে ইয়ামাল বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছে, এবং তার অসাধারণ প্রতিভার তালিকায় আরেকটি ম্যাচ যোগ হয়েছে।

প্রথমে, ইয়ামাল বেনফিকার দুই ডিফেন্ডারকে এক মোচড়েই পরাস্ত করলেন। তাদের বিভ্রান্ত করে রাফিনহার কাছে বল পাঠালেন, যেখান থেকে ব্রাজিলিয়ান তারকা গোলটি করলেন। এরপর, ১৬ মিনিট পর, গোলমুখ থেকে সরে গিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে বাঁকানো শটে নিজেই জালে পাঠালেন বল।

 

তার কীর্তিতে বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত বেনফিকাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে (দুই লেগে ৪-১ ব্যবধানে) কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।

গত এক বছর ধরেই নিয়মিত এ ধরনের পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন ইয়ামাল। ইউরোতেও করেছেন, স্পেনজুড়েই করছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাব ও দেশের হয়ে ৪৫টিরও বেশি গোলে সরাসরি অবদান তার। এবং তার বয়স এখনো মাত্র ১৭!

গত গ্রীষ্মে যখন তিনি স্পেনকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে সাহায্য করেছিলেন, তখন তাকে ভবিষ্যতের তারকা বলা হচ্ছিল। তখন বলা হচ্ছিল, একদিন তিনি লিওনেল মেসির মতো বড় হতে পারে।

এখন?

তার ড্রিবলিং পরিসংখ্যান ভিনিসিয়ুসের কাছাকাছি

"আমি মনে করি, তাকে মেসির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ মেসি অনন্য এবং তার মতো কেউ হবে না," জানুয়ারিতে বলেছিলেন তার বার্সেলোনা ও স্পেনের সতীর্থ গাভি। তবে এরপর তিনি যোগ করেন, "কিন্তু আমার কাছে লামিন এখনই সেরা।"

তাকে সেরা হিসেবে ঘোষণা করতে অনেকেই দ্বিধায় থাকবেন। কারণ, আরও অনেক অভিজ্ঞ তারকা রয়েছেন—ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি, লিভারপুলের মোহামেদ সালাহ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল শাসন করা এমবাপ্পে বা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

কিন্তু কখনও কখনও ইয়ামালকে তাদের সবার চেয়েও পরিপূর্ণ খেলোয়াড়ের মতো মনে হয়। লা লিগায় অ্যাসিস্ট ও গোল তৈরি করার সংখ্যায় তিনি শীর্ষে। তার ড্রিবলিং পরিসংখ্যান ভিনিসিয়ুসের কাছাকাছি। আর বলের ওপর তার দক্ষতা তো অবিশ্বাস্য! ইতোমধ্যেই বহু ডিফেন্ডারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছেন তিনি।

 আর সবচেয়ে বড় বিষয়, তিনি শুধু নিজেই খেলছে না, বরং সতীর্থদেরও ভালো খেলতে সাহায্য করছেন। রাফিনহার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের জন্য ইয়ামালের বড় অবদান, লেভানডফস্কির পারফরম্যান্সেও তার প্রভাব স্পষ্ট। এমনকি ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখছে।

বার্সেলোনা এখন ইউরোপের অন্যতম সেরা দল, এবং এ বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অন্যতম দাবিদার। এর বড় কারণ ইয়ামাল।

ইয়ামাল কি সত্যিই মেসির পথে হাঁটছেন? হয়তো তিনি সর্বকালের সেরা হতে পারবেন না, কারণ ক্যারিয়ার সব সময় সরলরেখায় চলে না, চোটও বাঁধা হতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে তাকে ‘ভবিষ্যতের তারকা’ না বলে ‘বর্তমানের সেরা’ বলাটাই যথার্থ।

এখনও হয়তো তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নয়। তবে বছরের শেষ নাগাদ হয়তো সেই মুকুটটাও তার মাথায় উঠতে পারে!



 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত