টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে লালমনিরহাটের তিস্তার বাম তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তৃতীয় দফায় প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে শতাধিক গ্রামের রাস্তা-ঘাট, বসতভিটা ও ফসলি জমি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি সমতল রেকর্ড হয় ৫২.২২ মিটার, যা বিপদসীমা (৫২.১৫ মিটার) থেকে ৭ সেন্টিমিটার বেশি। আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে এই পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এতে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বহু নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি।
কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ভোটমারী এলাকায় ইস্ট্রাকো সোলার প্যানেল স্থাপনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় বাঁধ ও রাস্তাগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে গেলে কালীগঞ্জ উপজেলা শহর হুমকির মুখে পড়তে পারে।
গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। আকাশের পানি আর নদীর পানি এক হয়ে গেছে। মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। ফসলি জমি ও পশুপাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছি। প্রশাসনের দ্রুত সহযোগিতা দরকার।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ডালিয়া ডিভিশনের উপসহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার মধ্যে পানি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
