জীবনের ইতি টানলেন স্বেচ্ছামৃত্যুর পথিকৃৎ মিনেলি

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১৯ এএম

সুইজারল্যান্ডের স্বেচ্ছামৃত্যু আন্দোলনের পথিকৃৎ ও ডিগনিটাসের প্রতিষ্ঠাতা লুডভিগ মিনেলি নিজেই সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুর মাধ্যমে জীবনের ইতি টেনেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) তাঁর ৯৩তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

১৯৯৮ সালে ডিগনিটাস প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিনেলি সুইস আইনে জীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের অধিকারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি মানুষের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে কাজ করে গেছেন। প্রতিষ্ঠাতার আদর্শকে ধারণ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকারের পক্ষে কাজ চালিয়ে যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। 

সাংবাদিকতা থেকে আইন পেশায় আসা মিনেলি সুইজারল্যান্ডের আদালতসহ ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জয় পান। এর মধ্যে ২০১১ সালের একটি ঐতিহাসিক রায়ে ব্যক্তির নিজের মৃত্যুর সময় ও পদ্ধতি নির্ধারণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ডিগনিটাস প্রতিষ্ঠার পর প্রায় তিন দশকে বিশ্বজুড়ে স্বেচ্ছামৃত্যু বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্পেন ও অস্ট্রিয়া—বহু দেশই এ বিষয়ে আইন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দশটি অঙ্গরাজ্যতেও স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ।

সুইজারল্যান্ডে সক্রিয় সহায়তায় মৃত্যুদান (ইউথানেশিয়া) বৈধ নয়, তবে সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু বহুদিন ধরেই অনুমোদিত। ডিগনিটাস বিদেশিদেরও এই সেবা দিয়ে থাকে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি চার হাজারের বেশি মানুষকে জীবনের ইতি টানতে সহায়তা করেছে, যার মধ্যে ৫৭১ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক। বর্তমানে প্রায় এক হাজার নয়শ ব্রিটিশ নাগরিক ডিগনিটাসের সদস্য।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত