মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ভদ্রগাঁও গ্রামে মূলত বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা বসবাস করেন। এই বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা নিরামিষ ভোজী হলেও তারা কিন্তু বছরে একদিন আমিষ ভোগ করেন। তাদের বংশ ভেদে আবার ভিন্ন ভিন্ন মাছ খেয়ে থাকেন। এছাড়া তারা বছরের নির্দিষ্ট পাঁচদিন দল ভেদে ভিক্ষা করতে বের হয়ে থাকেন।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষজন তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও উৎসবের অংশ হিসেবে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে ইয়াওশাং বা হোলি উৎসবের সময় দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল ও অর্থ ভিক্ষা করে থাকেন। এই প্রথাটি মূলত তাদের সামাজিক বন্ধন ও উৎসবের আনন্দের সাথে সম্পৃক্ত, যা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মতো এলাকায়ও দেখা যায়।
সময়কাল
সাধারণত হোলি বা দোল উৎসবের সময় হয় বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে। একেক বছর একে সময়ে হয়ে থাকে। এবার ফাল্গুন মাসে ১৮ তারিখের এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন হয় ভিক্ষা উৎসব।
পদ্ধতি
দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘হরি হরি’ ধ্বনি দিয়ে ভিক্ষা বা ‘ভিখা’ চাল ও টাকা সংগ্রহ করা হয়।
উদ্দেশ্য
এটি মনিপুরীদের সংস্কৃতির একটি অংশ। যা সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে। কিছু ক্ষেত্রে খরার সময় বৃষ্টি কামনায়ও তারা ঐতিহ্যবাহী গান গেয়ে ভিক্ষা বা খাবার সংগ্রহের সংস্কৃতি পালন করে থাকেন।
ঐতিহ্য
এটি একটি প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতি ও বিশ্বাস, যেখানে বাড়ি বাড়ি থেকে সংগৃহীত চাল বা অর্থ দিয়ে উৎসবের বিশেষ ভোগ তৈরি করা হয়। এটি সামাজিক সংহতি এবং বিশ্বাসের একটি প্রথা হিসেবে পালিত হয়।
