অর্থমন্ত্রী বললেন

আইএমএফের কিস্তি নিয়ে হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ নেই

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫০ এএম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের ঋণের কিস্তি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেন-দরবারে কয়েকটি বিষয়ে সমাধান হয়নি। আগামী দুই সপ্তাহে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। ফলে এ নিয়ে হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ নেই। বিষয়টি এমন না, আলোচনা আজ শেষ। সামনে আরও আলোচনা হবে। সবাইকে বুঝতে হবে, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের চলমান বসন্তকালের বৈঠকে সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিকে সংস্কারে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিতের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস। কম রাজস্ব আহরণ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)  ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কিস্তি না করে দিয়েছে। এমন সংবাদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যিনি এমন সংবাদ লিখেছেন তাকে এর উত্তর দিতে হবে, আমার এমন বিষয়ে কিছু জানা নেই।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি চলছে। এ পর্যন্ত ৫ কিস্তিতে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি পরিমাণ অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থগিত করে রাখা কিস্তির অর্থ ছাড়ে আলোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। বৈঠকের আলোচনাগুলোতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন খাতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আইএমএফ।

বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থরক্ষা করে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেবে বাংলাদেশ। আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

১৭ এপ্রিল ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঋণ স্থগিতের বিষয়ে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। গত বৃহস্পতিবার আইএমএফের সঙ্গে কোনো বৈঠক হয়নি, বৈঠক হয়েছে শুক্রবার। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল আইএমএফের দলের সঙ্গে দুটি বৈঠকে অংশ নিলেও ঋণের কিস্তির বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা গেছে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল গত শুক্রবার আইএমএফের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছে। ওই দিন সকালে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ও তার টিমের সঙ্গে প্রথম এবং বিকেলে আইএমএফের ডিএমডি নাইজেল ক্লার্ক ও তার টিমের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠক হয়।

আইএমএফের সঙ্গে বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, কিছু বিষয় আইএমএফের বিভিন্ন উইং, বিশেষ করে আইএফসি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে যে সমস্যাগুলো আছে ওইগুলোতে তারা ‘রোল প্লে’ করতে চায়। তিনি বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে, কারণ অনেকগুলো ইস্যু সমাধান হলেও কয়েকটা ইস্যু আলোচনার মধ্যে আছে, যেগুলো আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত