ফেরিগুলোতে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

নারায়ণগঞ্জে ৪ মাসের ব্যবধানে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীতে দুটি ফেরিতে যানবাহনডুবির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই দুটি দুর্ঘটনার মধ্যে একটিতে ৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও অপরটিতে চালক অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। শীতলক্ষ্যা ধলেশ্বরীতে চলাচলকারী ফেরিগুলোর নিরাপত্তা বেষ্টনী দুর্বল হওয়ায় যানবাহনগুলো নদীতে পড়ে যাওয়া ঠেকাতে পারেনি। এ ছাড়াও ফেরিতে ওঠার অ্যাপ্রোচ রোডগুলোও মেরামত না হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নবীগঞ্জে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারসহ শীতলক্ষ্যা নদীতে পড়ে যান চালক। পরে স্থানীয় নৌকার মাঝিদের সহযোগিতায় চালক ও প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির মালিক আগেই নেমে গিয়েছিলেন। চালক গাড়িটি ফেরিতে তোলার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই সাঁতরে এবং স্থানীয় নৌকাচালকদের সহযোগিতায় তীরে ওঠেন চালক। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম অন্তত এক ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে।

প্রাইভেটকারটির চালক জাকির হোসেন বলেন, ‘গাড়ির গিয়ার বক্স সমস্যার কারণে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যাই। পরে গাড়ির গ্লাস খুলে বের হই। এ সময় হাত ও পায়ের কিছু জায়গায় কেটে যায়।’

এদিকে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরী নদী পার হওয়ার সময় ফেরি থেকে ট্রাকসহ পাঁচটি যানবাহন পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বক্তাবলীর পূর্বপাশের ঘাট থেকে যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে ফেরিটি ছাড়ে। মাঝ নদীতে পৌঁছে হঠাৎ ট্রাকটি চালু হয়ে যায়। এতে ট্রাকসহ সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল, দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যান পানিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন তিনজন। এই ঘটনায় নিহতরা হলেন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মাসুদ রানা, মোটরসাইকেল চালক মো. রফিক ও ভ্যানচালক স্বাধীন। ফেরি থেকে ৫টি যানবাহন পড়ে ৩ তিনজন নিহতের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাইমা ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটির সেই প্রতিবেদনের আলোকে জেলা প্রশাসনকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এদিকে সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জ ফেরিঘাটে শীতলক্ষ্যার উভয়তীরেই ওঠানামার জন্য নির্মিত অ্যাপ্রোচ রাস্তা এখনো সঠিকভাবে নির্মাণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নদীতে পানি কম-বেশি হওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘাট ওঠানো-নামানোর দরকার হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে তড়িঘড়ি ও যেনতেনভাবে ঘাট নির্মাণ করায় পন্টুনে ফেরি বাঁধা ও ছেড়ে দেওয়া, ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে ফেরিগুলোতে একের পর এক যানবাহন নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ফেরি পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নানা ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র আবারও সামনে আসে।

অভিযোগ রয়েছে ফেরিতে ছোটখাটো ক্রটি, মেরামত ও সংস্কারের প্রয়োজন হলেও সঠিক সময়ে সেগুলো করা হয় না। এ ছাড়াও ফেরিগুলোর নিরাপত্তা বেষ্টনী যথেষ্ট দুর্বল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য লাগানো লোহার পাইপ ভেঙেই যানবাহন যাত্রীসহ নদীতে পড়ে গেছে।

বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানান, নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীর পরে সম্প্রতি রাজবাড়ীতে পদ্মায় ফেরি থেকে বাস পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে নারায়ণগঞ্জে প্রাইভেটকার ফেরি থেকে পড়ে যাওয়ার চিত্র দেখে যাত্রীরা আতঙ্কে রয়েছেন। ফেরিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন বাড়ানো দরকার তেমনি অ্যাপ্রোচ রোডটিও মেরামত করা দরকার।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, ফেরিতে ওঠানামার সময় থেকে শুরু করে ফেরিতে ওঠার পরেও গাড়িচালকদের সদা সতর্ক থাকা দরকার। কিন্তু দেখা যায়, বেশিরভাগ চালকই ফেরিতে ওঠানামার সময় এবং ওঠার পরেও অসতর্ক থাকেন। এতে করে সাম্প্রতিক সময়ে বেশি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, অ্যাপ্রোচ রোডটি শিগগিরই আমরা সংস্কারের উদ্যোগ নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত