বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়েছিল। দিনক্ষণও ঠিক করা ছিল। আসন্ন ঈদুল আজহার পরদিন বর সেজে নববধূকে ঘরে তোলার কথা ছিল তার। দুই পরিবারের সম্মতিতে সম্পন্ন হয়েছিল বাগদানও। শুধু বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে কবুল পড়িয়ে নতুন জীবনে পা রাখা। কিন্তু সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল শনিবার দিবাগত রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন মো. নবীদুল ইসলাম (২২)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রয়াত সুজন মিয়ার ছেলে। পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে তার বিয়ের কথা চূড়ান্ত হয়েছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের সময় বাঁশঝাড় থেকে একটি বাঁশ ভেঙে ঘরের টিনের চালের ওপর পড়ে। রবিবার সকালে সেই বাঁশ সরাতে ঘরের চালে ওঠেন নবীদুল। এ সময় টিনের চালে লেগে থাকা আইপিএস লাইনের বিদ্যুতে স্পৃষ্ট হয়ে তিনি নিচে পড়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন বিকেলে আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
নবীদুলের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকায়ও বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ।
নবীদুলের মামা রাসেল মিয়া জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের চালের ওপর পড়ে থাকা বাঁশ সরাতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং নিচে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার পরদিন নববধূকে ঘরে তোলার জন্য পরিবারের সবাই অপেক্ষা করছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সাঈদ ফরিদ বলেন, নবীদুল অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের ছেলে ছিলেন। ঘরের চালের ওপর থাকা বাঁশ কাটতে গিয়ে আইপিএস লাইনের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।