মেনন-কামরুলের বিচার শুরুর আদেশ

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ০৬:৫০ এএম

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক হত্যাকা-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করে।

অভিযোগ গঠনের সময় কারাগারে থাকা আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পড়ে শোনানোর পর ট্রাইব্যুনালের প্রশ্নের জবাবে দুজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের আরজি জানান। গত ২ মার্চ অভিযোগ গঠনের আরজি জানিয়ে শুনানি করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেছিলেন আসামিদ্বয়ের আইনজীবীরা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাশেদ খান মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। দুজনের বিরুদ্ধে ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২২ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কামরুল ইসলামকে একই বছরের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কামরুলের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক মেডিকেল সনদ দাখিলের অভিযোগ:

কারাগারে থাকা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসুস্থতার ভান করে চিকিৎসা সনদ দাখিলের অভিযোগ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, তিনি (কামরুল ইসলাম) অসুস্থতার ভান করে পিজি হাসপাতালের (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) পরিবর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়া, সেখান থেকে তার মতো করে কোনো রিপোর্ট বানিয়ে নিয়ে আসা, বিশেষ কোনো সুবিধা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ব্যাহত করা, এগুলো নানা বিষয় হতে পারে। কোনো উদ্দেশ্য থেকে এ জাতীয় পদক্ষেপ তিনি নিয়ে থাকতে পারেন।

অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, পিজি হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ারে হাসাপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল থেকে তিনি (কামরুল ইসলাম) একটি আদেশ নিয়েছেন। আমাদের মনে হয়েছে, এভারকেয়ার হাসপাতালে কোনো প্রিজন সেল নেই। সেখানে চিকিৎসা নিতে গেলে বিশেষ আদেশ লাগে, এই খরচ কে বহন করবে এ রকম কিছু থাকে। কিন্তু আদেশের মধ্যে এ রকম কিছু ছিল না। তিনি বলেন, তারা (আসামিপক্ষ) যে কাগজপত্র দাখিল করেছে তা আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে তিনি (কামরুল ইসলাম) হাজতে আছেন। তাহলে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি কীভাবে ডাক্তারের কাছে গেলেন। এ নিয়ে ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ (চিকিৎসকের কাছে যাওয়া) বা অনুমতি নেই।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুর থেকে আনা একটি মেডিকেল পেপার (চিকিৎসা সনদ) দেখেও মনে হলো যে, ওই সময় তিনি জেল হাজতে। তাকে না দেখে কিংবা তিনি ডাক্তারের কাছে না গিয়ে কী করে এই চিকিৎসাপত্রটি আদালতে আনলেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল পেপারে লেখা আছে ‘গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার’। কিন্তু এ রকম কোনো রোগের নাম শুনেছি বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, গত পরশু (মঙ্গলবার) বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নোটিসে এনেছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাইব্যুনাল গত ৯ এপ্রিল যে আদেশটি দিয়েছিলেন সে আদেশ স্থগিত করে শুনানি নিয়ে আদেশটি (এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা) বাতিল করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত