মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে শতকরা ৬২% লাইসেন্স বিহীনভাবেই চলছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা। উপজেলায় ৪টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১টির রয়েছে লাইসেন্স বাকি ৩টি হাসপাতালে বিভিন্ন মেয়াদে লাইসেন্স নবায়ণ ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদের মধ্যে গত ৪ বছর যাবত ইউনুস খান মাহমুদ খানম মেমোরিয়াল হেলথ্ কমপ্লেক্স, গত ২ বছর যাবত ইসলামি জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও গত ২ বছর যাবত নওপাড়া ডিজিটাল হসপিটাল এন্ড দি ল্যাবের লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে।
শুধু বেসরকারি ক্লিনিকগুলো নয় উপজেলায় আরও ৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এদের চিত্র আরও ভয়ংকর। এরমধ্যে সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোন ধরনের লাইসেন্স নেই। সে সঙ্গে ডা. আ. মান্নান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পদ্মা ল্যাব ও হাসেমস্ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন নেই। এতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এবং ভুল চিকিৎসায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই। এ রকম ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরেন উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাজমুল হাসান।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলা সভাকক্ষে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে উপজেলার বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিক সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির প্রতিনিধি, বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা লস্করের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরফানুর রহমান।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাজমুল হোসেন, বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুল, লৌহজং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া, সদস্য মিজানুর রহমান ঝিলু, উপজেলা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন কিসলু, উপজেলা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, ওষুধের মান নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি ও সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
সিংড়ায় মাছ ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করল স্ত্রী-ছেলে