হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে চার শিশু এবং বাকি আটজনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। একই সময়ে  ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৯২ জন এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১১১ জনের।  হামজনিত নতুন রোগী পাওয়া গেল এক হাজার ৩০৩ জন। সরকারি হিসাবে হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৪  শিশুর। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫৫ হাজার ৬১১ জন। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৭ হাজার ৪১৬ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৬ হাজার ৫৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১২ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে পাঁচজন, চট্টগ্রামে চারজন বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৫৫৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে রোগী রয়েছে ৯৮ জন।  

সরকারি হিসেবে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ বিভাগে ‘সন্দেহজনক হামে’ মৃত্যু হয়েছে ১৫০ জনের। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ৩৫, ময়মনসিংহে ৩২,  সিলেটে  ৩০, বরিশালে ২৯, খুলনায় ১৯ জন এবং রংপুর বিভাগে চারজন হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে। 

হামের ৯৯ শতাংশ রোগীই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে : গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন চিকিৎসকরা জানান, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনলে এসব জটিলতায় মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক। উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. আসিফ মুজতাবা মাহমুদ (মহাসচিব, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন), অধ্যাপক রুহুল আমিন (পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজিস্ট ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন), অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া (ভাইস প্রেসিডেন্ট, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন), অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর (জয়েন্ট সেক্রেটারি, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন) এবং অধ্যাপক ডা. গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভুঁইয়া (সেক্রেটারি জেনারেল, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত