আইনগত সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় জরুরি 

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আইনগত সহায়তা নিশ্চিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের কার্যকর সমন্বয় জরুরি। এর জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে তথ্য বিনিময়, পর্যবেক্ষণ, সেবা রেফারেল, সমন্বিত পরিকল্পনা ও যৌথ বাস্তবায়নের ঘাটতি দূর করতে হবে। আইনগত সহায়তার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একসঙ্গে প্রচার চালাতে হবে বলে জানিয়েছেন বক্তারা।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। গণমাধ্যমকে ব্র্যাকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। 

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেল্প) কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে।

প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলার মধ্যে অধিকাংশ আপসযোগ্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। তিনি তিন মাসে ৫০ হাজার মামলা আপসের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং মামলা হওয়ার আগে ও পরে মধ্যস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

আলোচনায় আইনগত সহায়তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিনিময়, সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা ও কমন ডেটাবেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, শ্রমজীবী, হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ প্রান্তিক মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক আইনগত সহায়তা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার বিচার শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

সভায় ডিজিটাল আইনগত সহায়তা, অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রি-কেস মেডিয়েশন ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ন্যায়বিচারভিত্তিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কার্যকর অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত