নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার ঢাকায়

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ এএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপির অন্যতম প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল শুক্রবার ঢাকা পৌঁছেছেন।

ভারতীয় হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি গতকাল দুপুরে সড়কপথে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তার স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদীও গতকাল একইসঙ্গে ঢাকা এসেছেন।

ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢ়ে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার বিভাগের অন্যতম উপপ্রধান আরিফ মোহাম্মদ ও বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন সেখানে দীনেশ ত্রিবেদীকে স্বাগত জানান। 

 দেশ রূপান্তরের শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দীনেশ ত্রিবেদী ও তার স্ত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢাকা রওনা হন।   

তার আগে তিনি বলেন, ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে (বাংলাদেশের) ২০ কোটি মেলালে হয় ১৬০ কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কাউকে ‘আলাদা’ ভাবছেন না, এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখছেন না, আমি হেঁটে চলে এসেছি।’

সবাই মিলেমিশে দুই দেশের মধ্যকার ভিসা সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘শুধু অভিন্ন সীমান্ত নেই, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক।’

হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। দুই দেশের জনগণকে ভাইবোন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছর শাসনকালে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়’ হিসেবে গণ্য করতেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। পদচ্যুত হওয়ার পর হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী উপায় অবলম্বনের অভিযোগে ঢাকায় একাধিক মামলায় এরই মধ্যে আদালত তার মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে হাসিনার দল আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এসেছে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোট। এমন প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার গত ৫৪ বছরের চর্চার অবসান ঘটিয়ে ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে। তিনি এ পদে এ পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া সর্বশেষ কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী প্রায় ৭৬ বছর বয়সী একজন রাজনীতিক। বিভিন্ন সময় ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। এক সময় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে অভিন্ন নদী তিস্তার পানি ভাগাভাগির বিষয়ে একটি অস্থায়ী চুক্তি করার বিষয় তৎকালীন মন্ত্রিসভা কমিটিতে আলোচনায় এলে ত্রিবেদী এ চুক্তির বিরোধিতা করেন। তিনি পরে জনতা দল হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি ভালো বাংলা জানেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত