একটু একটু করে অনেকটাই বদলে গেছে সময়। বদলে গেছেন টিভি নাটকের চাহিদাসম্পন্ন শিল্পীরাও। এই তো কয়েক বছর আগেই টিভি পর্দায় দাপটের সঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে, জাকিয়া বারী মম, বিদ্যা সিনহা মিম, তানিয়া বৃষ্টি, তানজিন তিশা, তাসনিয়া ফারিণ, কেয়া পায়েল ও মেহজাবীনদের। ওই সময় তাদের নাটক মানেই দর্শকের মনে অন্যরকম এক উন্মাদনা কাজ করত। পরে একক নাটকে আধিপত্য বিস্তার করেন সাবিলা নূর, সাফা কবির, সামিরা খান মাহি, জান্নাতুল সুমাইয়া হিম, তটিনী, তানজিয়া জামান
মিথিলা, নাজিফা তুষিসহ একঝাঁক তরুণ অভিনেত্রীরা। কিন্তু নানা কারণে বেশিরভাগ শিল্পীই টিভি পর্দা ছেড়ে কাজ করছেন অন্যান্য মাধ্যমে। দেশে এখন দুই ডজনেরও বেশি টিভি চ্যানেল থাকতেও পুরো বিনোদন অঙ্গন দখলে নিয়েছে ইউটিউব চ্যানেল। অর্ধ যুগেরও বেশি সময় ধরে আবির্ভাব হয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের। এই মাধ্যমটি এখন বিনোদনের রাজত্ব করছে। ধীরে ধীরে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। নানা সুবিধা থাকায় আলোচিত নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা ঝুঁকে যান ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে বিনোদনের এই নতুন মাধ্যমটি।
তবে কিছুদিনের ব্যবধানে পাল্টে যায় সেই ধারাও। পরিবর্তন ঘটে দৃশ্যপটের। টিভি নাটক এবং ওয়েব সিরিজ ওয়েব ফিল্ম একেবারে কমিয়ে দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম চলচ্চিত্রে। ফলে তারকাশূন্য হয়ে যাচ্ছে টিভি নাটক। তারকা সংকটে ভুগছেন টিভি নাটকের প্রযোজক-পরিচালকরা। তাছাড়া ছোট পর্দার শীর্ষ অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর পর পর দুটি সিনেমা দেশ-বিদেশে প্রশংসা কুড়ালে তিনিও এখন সন্ধান করছেন ভালো গল্পের সিনেমা। অন্যদিকে তাসনিয়া ফারিণ, তানজিন তিশাও নাটকে অভিনয় কম করেছেন। তাসনিয়া ফারিণ এরইমধ্যে একগুচ্ছ সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন। তবে তিনি বেছে বেছে ছবি হাতে নেবেন বলে জানিয়েছেন দেশ রূপান্তরকে। আবার সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমিও ভিন্ন চিন্তা করছেন জানিয়ে বলেন, ‘গত দু’তিন বছর অনেক বেশি কাজ করা হয়েছে। দর্শকের সঙ্গে অনেক বেশি কানেক্টেড ছিলাম; কিন্তু এর বিপরীতে নিজেকে, পরিবারকে বা আমার যেসব প্যাশন আছে, যেমন পেইন্টিং, বই পড়া এগুলোতে সময় দেওয়া হয়নি। এখন এসব জায়গায় সময় দিতে চাই। আর গত বছরের শেষ থেকেই আমি কাজের পরিমাণ কমিয়েছি, এ বছরও ওভাবেই কাজ করব। যে কাজ ভালো লাগবে, সেগুলো করব আর শখের কাজগুলো করব।’ আরেক অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ চাচ্ছেন গুছিয়ে কাজ করতে। তিনি বলেন, ‘অভিনেয়ের পাশাপাশি নিজেও একটা প্রোডাকশন হাউজ খুলেছি। এই হাউজ থেকে নিয়মিত কাজের পরিকল্পনা করেছি; সেটি হতে পারে গান, ফিকশন কিংবা ওটিটিসহ যে কোনো মাধ্যমের কাজ।’
বর্তমান সময়ের দেশীয় শোবিজের অন্যতম আলোচিত নাম নাজিফা তুষি। নিজের অভিনয় দক্ষতা, সাবলীল ও বাস্তবধর্মী অভিনয় এবং ভিন্নধর্মী গল্পের প্রতি ঝোঁকের কারণে তিনি ইতিমধ্যেই দর্শকদের কাছে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। আর সেই যাত্রায় একের পর এক আলোচিত প্রজেক্টে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে আজ তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হয়ে উঠেছেন। গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। ‘হাওয়া’র ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে নির্মাতা সুমনের এই সিনেমা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। মুক্তির পর থেকেই ছবিটি ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ‘রইদ’ বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রায় ৫০টি শহরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
‘রইদ’ নিয়ে তুষি জানান, সিনেমাটির জন্য দীর্ঘ সময় অন্য কোনো কাজ করেননি। চরিত্রটিকে নিজের ভেতরে ধারণ করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার বিশ্বাস, দেশের দর্শকদের মতো প্রবাসী দর্শকরাও ছবিটি উপভোগ করবেন। নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের কাব্যিক নির্মাণশৈলী এবং গল্প বলার ধরনও ‘রইদ’-কে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে রইদের এর আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন তুষি। তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজভিত্তিক উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এর ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই স্বীকৃতি সিরিজটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মডেল-অভিনেত্রী সাবিলা নূর ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় এসেই যেন দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। প্রথম সিনেমা ‘তান্ডব’-এ শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি সফল চিত্রনায়িকা বনে যান তিনি। এই সাফল্যের পাল্লা আরও ভারী করে তোলে এবার ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া শাকিব-সাবিলার ‘রকস্টার’ সিনেমাটি। এতে মীরা নামের একটি ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে সাবিলাকে। এর আগে গত রোজার ঈদে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দ্যুতি ছড়ান এই অভিনেত্রী।
তিনটি সিনেমা প্রসঙ্গে সাবিলা বলেন, ‘প্রতিটি সিনেমার প্রতিটি চরিত্রেই নতুনভাবে নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করেছি। আগামীতে চলচ্চিত্রেই কাজ করতে চাই এবং অবশ্যই বেছে বেছে।’