২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০২:২৬ এএম

তারল্য সংকট মেটাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সহায়তা দেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, ঈদুল আজহার পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। তার নিয়োগের বিরোধিতা করে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ ব্যানারে টানা আন্দোলন করছে। এই অস্থিরতার জেরে ব্যাংকটিতে বিপুলসংখ্যক আমানতকারী তাদের আমানত তুলে নেন। তারল্য সংকট এত গভীর হয় যে গ্রাহকদের চাহিদামতো অর্থ দিতে ব্যর্থ হয় ব্যাংক। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও-ও (সিআরআর) বজায় রাখতেও পারেনি।  এর ফলে গত সপ্তাহে ব্যাংকটি ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। এর পরই এই ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হলো।

গত শুক্রবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকে তারল্য সহায়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। 

ওই সময় গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের সংকট দ্রুত কেটে যাবে। আমানতকারীদের টাকা তুলতে সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে।’

ব্যাংকের ১১ জুন পর্যন্ত আর্থিক অবস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে আমানত ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। ১১ জুনে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকার আমানত হারিয়েছে।

অন্যদিকে একই সময়ে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকায়। ফলে আমানতের তুলনায় বিনিয়োগের হার ১০২ দশমিক ৭৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হার ১০০ শতাংশের ওপরে চলে যাওয়া তারল্যের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধ্যতামূলক নগদ জমা সংরক্ষণেও বড় ঘাটতি দেখা গেছে। ১১ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির সংরক্ষণ করার কথা ছিল ৭ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। কিন্তু সংরক্ষিত ছিল মাত্র প্রায় ২১ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার ২১১ কোটি টাকা।

আইনগত তারল্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজন ছিল ৯ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা, কিন্তু সংরক্ষিত ছিল ৯ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি হয়েছে প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকা।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে লেনদেন ব্যবস্থায়। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১১ জুনের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকার চেক ও অন্যান্য নিষ্পত্তিযোগ্য লেনদেন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এসব লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৫১১টি। একই সময়ে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর সেবা, ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তর সেবা এবং বড় অঙ্কের আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সেবাও সীমিত করা হয়।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বড় ব্যাংক। তাই এর আর্থিক স্থিতিশীলতা শুধু ব্যাংকটির গ্রাহকদের জন্য নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করাও এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত