জামানতের পরিমাণ বাড়ানোসহ নিয়োগ পেতে বেশ কিছু শর্ত যোগ করে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা (সংশোধিত), ২০২৫ জারি করা হয়েছে। সংস্থার ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানকে জামানত হিসেবে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। যা এর আগে ছিল ৩০ হাজার টাকা। সংশোধিত নীতিমালায় ডিলারশিপের যোগ্যতা, নবায়নের সময়সীমা, প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতাসহ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছর এপ্রিলে নীতিমালাটি জারি করা হয়েছিল। নীতিমালাটিতে বেশি কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি থাকায় সংশোধন করে নতুন করে প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশোধিত নীতিমালাটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ডিলারদের জন্য কড়াকড়ি করা হয়েছে জামানত ও নবায়নের ক্ষেত্রে। ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত নির্বাচিত হওয়ার পর আগে যেখানে জামানত বাবদ ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে হতো তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে আবেদনের নিয়ম থাকলেও এখন মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগেই ফি-সহ আবেদন করতে হবে।
বিলম্ব ফির ক্ষেত্রে আগে তিন মাস বা তার বেশি সময় পাওয়া গেলেও, নতুন নিয়মে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘সর্বোচ্চ এক মাস’ পর্যন্ত এক হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে নবায়নের সুযোগ থাকবে। এই এক মাসের মধ্যে নবায়ন না করলে ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে।
জানা গেছে, ডিলার নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে শুধু সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স থাকলে চলবে না, আবেদনকারীর অবশ্যই মুদি ব্যবসার হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে। ২০২৫ সালের নীতিমালায় মুদি ব্যবসায়ীর শর্ত যুক্ত করা ছিল। তবে এবারে ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়ে কড়াকড়ি করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এর আগে অনুমোদিত মূল নীতিমালায় কিছু ব্যবহারিক জটিলতা ও তদারকি দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ায় দ্রুত এই সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় মাঠপর্যায়ে পণ্য বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ওয়ার্ড বা ইউনিয়নে ডিলারের পদ শূন্য হলে, কিংবা কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে কার্যক্রম স্থগিত থাকলে অথবা সময়মতো ডিলারশিপ নবায়ন না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ড বা ইউনিয়নের ডিলার দিয়ে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হবে, যাতে সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তিতে না পড়েন। এ ছাড়া ডিলাররা চাইলে একই ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের ভেতরে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে দোকানের ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন।
সংশোধিত নীতিমালায় কারা ডিলারশিপ নিতে পারবেন না তার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও ডিলারশিপে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আগের নীতিমালায় সরকারি কর্মচারী, বেসরকারি চাকরিজীবী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ডিলার হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, নতুন সংশোধিত নীতিমালা জারির সঙ্গে সঙ্গে আগের সব নীতিমালা বাতিল হয়ে গেছে। এখানো অনেক ডিলার রয়েছেন যারা ২০২১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী যারা নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাদের মেয়াদ এ বছরের জুন অর্থাৎ চলতি মাস পর্যন্ত রয়েছে। এসব ডিলারশিপ আর নবায়ন করা হবে না। তাদেরকে ডিলারশিপ পেতে হলে নতুন করে আবেদন করতে হবে সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের সময়ে যারা ডিলারশিপ পেয়েছিলেন তারা নতুন ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। টিসিবি বলছে, বর্তমানে সারা দেশে ৮ হাজার ২৭৩ জন ডিলার রয়েছেন। এ ছাড়া নতুন করে বিভিন্ন জেলায় ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।