আমাদের বাজে অভিষেক

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ এএম

ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচটি ড্র দিয়ে শেষ হলো। এটা সত্য যে আমরা এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিলাম। দুই দলেই ভালো খেলোয়াড় ছিল এবং টেকনিক্যাল দিক থেকেও দল দুটি সমানে-সমান ছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমরা ভালো খেলিনি। ম্যাচের বেশ কয়েকটি জায়গায় আমাদের ভুগতে হয়েছে। এমনকি একদম শেষ মুহূর্তে আলিসন একটি নিশ্চিত শট বাঁচিয়ে দিয়েছে।

প্রথম হাফের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। প্রথম পনেরো-বিশ মিনিট আমরা পুরোপুরি কোণঠাসা ছিলাম। ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই মরক্কো মাঠের ওপরের দিকে তীব্র প্রেস করে খেলছিল। কী এক স্নায়ুচাপের মুহূর্ত! ওই সময়ে আমাদের মাত্র একটি শটের বিপরীতে তারা গোলমুখে ছয়টি শট নিয়েছিল। আমরা ধীরে ধীরে সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসি, নিজেদের মধ্যে বল পাস বাড়াই এবং নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাই। কিন্তু প্রতিপক্ষ শিবিরে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি দল ছিল। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর, তারা একটি চমৎকার পাস বাড়ায় এবং এই বিশ্বকাপে আমরা আমাদের প্রথম গোলটি হজম করি; প্রতিভাবান স্ট্রাইকার সাইবারির একটি নিখুঁত ফিনিশিং ছিল সেটি।

এটা সত্য যে গোলটি খাওয়ার পর আমরা নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নিতে পেরেছিলাম। বল অবশেষে যেখানে পৌঁছানোর কথা সেখানে পৌঁছাতে শুরু করে সামনের সারির সেরা খেলোয়াড়দের কাছে। এরপর ভিনি জুনিয়র, রিয়াল মাদ্রিদে তার সেরা মুহূর্তগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে উইং ধরে একটি দুর্দান্ত একক আক্রমণ চালান, ভেতরে কেটে ঢুকে তার নিজস্ব চেনা ভঙ্গিমায় ফিনিশিং টানেন, যা গোলরক্ষক বোনোর সেভ করার কোনো সুযোগই রাখেনি। এরপর, প্রথম হাফে আমরা কার্যত আর কিছুই করতে পারিনি।

আমরা অনেক আশা নিয়ে বিরতির পর দ্বিতীয় হাফে মাঠে ফিরেছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে, দিনটি আনচেলত্তির দলের ছিল না। গুটিকয়েক বিচ্ছিন্ন আক্রমণ বাদ দিলে, আমরা ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে লড়াই করে গেছি; খেলায় সৃজনশীলতার অভাব ছিল এবং আমরা অনেক পাসিং ভুল করেছি। আজ (গতকাল) আমাদের মিডফিল্ড মূলত ছিল আক্রমণ ধ্বংস করা এবং মার্কিং করার মধ্যে বন্দি ছিল। কোনো ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার না থাকায় দল শেষ পর্যন্ত বড্ড বেশি ডিরেক্ট পাসের ওপর নির্ভর করে ফেলেছিল। আর মরক্কো অনায়াসেই সেই বলগুলোর দখল নিচ্ছিল।

এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সামগ্রিকভাবে মরক্কো ব্রাজিলের চেয়ে অনেক বেশি ভালো খেলেছে। তারা ভালো বল পাস করেছে, রক্ষণভাগে নিজেদের অবস্থান ঠিক রেখেছিল এবং বলের দখল ফিরে পাওয়ার পর কীভাবে আক্রমণ সাজাতে হয় ও জায়গা তৈরি করতে হয় তা ভালোভাবেই জানত। তারা ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আধিপত্য বিস্তার করেছে। এই তরুণ বুয়াদ্দি আমাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। এই ছেলেটা কত চমৎকার খেলে! মাত্র ১৮ বছর বয়স, অথচ এখনই ফুটবলের কত প্রতিভা। সে মাঠের সব জায়গায় ছিল মুভমেন্ট করেছে, আক্রমণ তৈরি করেছে, ট্যাকল করেছে। সে যদি এভাবে খেলতে থাকে, তবে এই ছেলে ফুটবলে অনেক দূর যাবে।

আমি মনে করি সবাই একমত হবেন যে, ব্রাজিলের হয়ে ভিনি জুনিয়র মাঠে সেরা ছিল। সে শুধু গোলই করেনি, বরং সেই সবচেয়ে বেশি প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে প্রথমার্ধে। রাফিনহা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, সে তার স্বাভাবিক ক্ষমতার চেয়ে অনেক নিচে খেলেছে। আর এই বিশ্বকাপে তার কাছ থেকে আমার অনেক আশা।

এদিকে, ফুল-ব্যাক পজিশনে আমাদের চিরন্তন সমস্যাটি রয়েই গেছে। ইবানিজ কার্যত শুধু রক্ষণভাগই সামলেছে, সে আসলে একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার যাকে পজিশন বদলে খেলানো হয়েছে। আক্রমণে ওঠার মতো সহজাত প্রবণতা তার নেই। দানিলো দ্বিতীয় হাফে মাঠে নেমে কিছুটা উন্নতি এনেছিল, তবে সত্যি কথা হলো ওয়েসলির কোনো বিকল্প আমাদের নেই। বাম পাশে ডগলাস সান্তোস কোনো বড় ভুল করেনি, তবে খেলায় তাকে খুব একটা দেখাও যায়নি।

আসল কথা হলো, কোনো মুহূর্তেই আমাদের দেখে মনে হয়নি যে আমরা ম্যাচটি জিততে যাচ্ছি। এখন এই পৃষ্ঠা উল্টে আমাদের হাইতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমি যদি ‘মিস্তার’র (কোচ আনচেলত্তির উদ্দেশ্যে সম্মানসূচক সম্বোধন) জায়গায় থাকতাম, তবে মিডফিল্ডে ফাবিনহো এবং রাইট-ব্যাকে দানিলোকে ধরে রাখতাম। এই বাজে অভিষেকের পর, শুধু খেলায় প্রচুর উন্নতি করা এবং ম্যাচ জেতাই গুরুত্বপূর্ণ হবে না, বরং বড় ব্যবধানে জিতে গোল ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়াও জরুরি! আমি এখনো বিশ্বাস করি!

(ও গ্লোবো থেকে অনূদিত)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত