পেন্টাগন থেকে আরও এক শীর্ষ জেনারেলের বিদায়

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে চলমান পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার দায়িত্ব ছাড়ছেন জেনারেল ক্রিস্টোফার সি. ডি. ডোনাহিউ। তিনি বর্তমানে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডোনাহিউ ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ও বিশৃঙ্খল সেনা প্রত্যাহারের সময় দেশটি ত্যাগকারী সর্বশেষ মার্কিন সেনা সদস্য হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে ইউরোপে দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করতে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সামরিক নেতৃত্ব পুনর্গঠনের উদ্যোগের মধ্যে ডোনাহিউও পদত্যাগ বা অপসারণের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ডোনাহিউ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন যে তিনি চলতি গ্রীষ্মের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়বেন।

মাত্র ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর তার এই আকস্মিক বিদায়কে পেন্টাগনের চলমান অস্থিরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাহিউ ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর উদীয়মান তারকাদের একজন। কিংবদন্তি ডেল্টা ফোর্স নেতা হিসেবে তিনি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ কিংবা জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান পদেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।

দীর্ঘ সামরিক জীবনে ডোনাহিউ ইরাক, আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই দশকের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে তিনি ধাপে ধাপে উচ্চপদে উন্নীত হন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান থেকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির দিকে মোড় নিলে তিনিও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধসহ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপে পেন্টাগনের কৌশলগত অভিযোজন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন ডোনাহিউ। তার বিদায়ের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এক প্রজন্মের সামরিক নেতাদের প্রস্থান আরও জোরালো হচ্ছে।

এদিকে ডোনাহিউ দায়িত্ব ছাড়ার পর ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোও পরিবর্তন হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে চার-তারকা জেনারেলের নেতৃত্বাধীন এই কমান্ডকে তিন-তারকা পর্যায়ে নামিয়ে আনা হতে পারে, যা সামরিক বাহিনীর কমান্ড একীভূতকরণ উদ্যোগের অংশ। তবে ডোনাহিউর বিদায় এবং এই কাঠামোগত পরিবর্তন একই সময়ে কার্যকর হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করছেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের দায়িত্ব আরও বাড়ানোর চাপ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ইস্যুতে ন্যাটোর কিছু সদস্য দেশের অনাগ্রহ নিয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে মিত্রদের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

ডোনাহিউর সম্ভাব্য বিদায় সম্পর্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। হেগসেথের মুখপাত্র এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে জানতে বললেও সেনাবাহিনী মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত