রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেবা সহজীকরণ ও হয়রানি কমাতে প্ল্যান পাসের (নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন) সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আবাসন খাতে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গতকাল বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্মকর্তাদের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নবনির্বাচিত সদস্যদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের ২০ জনেরও অধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের (২০২৬-২০২৮) পরিচালকরা অংশ নেন।
রিহ্যাবের পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আউয়াল ও তানভিরুল হক প্রবাল, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল, সংসদ সদস্য এম ফখরুল ইসলাম, বিটিআইয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এফ আর খানসহ রিহ্যাবের সাবেক নেতা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজউক চেয়ারম্যান জানান, ভবন নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব রিহ্যাবকে অর্পণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে যোগ্য ও নিয়ম মেনে নির্মিত ভবনের সনদ প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, কার্যকর ও অংশীদারত্বমূলক করা যায়। এ ছাড়া ড্যাপ সংশোধন, এফএআর, এসটিপি স্থাপন, সেটব্যাকসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল বলেন, আবাসন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ওয়েলফেয়ারকে গুরুত্ব দিলেও ইকোনমিক প্রসপারিটি বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ইকোনমিক প্রসপারিটি না থাকলে খালের পাড়ে কে থাকবে আর অ্যাপার্টমেন্টে কে থাকবে অথবা ওয়েলফেয়ারই বা কার হবে? তাই ইকোনমিক প্রসপারিটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ড্যাপের বিভিন্ন বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে উদ্ভূত সমস্যা তুলে ধরে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সংশোধনের দাবি তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে দিনব্যাপী একটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়।
রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৯টিরও বেশি লিংকেজ শিল্প জড়িত। তাই আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও সময়োপযোগী নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
রিহ্যাবের ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমান ড্যাপের কিছু বিধান বাস্তব প্রয়োগে আবাসন উন্নয়ন কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। ফলে একদিকে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
সভায় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানদ-, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং উন্নত অবকাঠামো বিবেচনায় যৌক্তিকভাবে এফএআর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে পরিকল্পিত উল্লম্ব নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া এসটিপি স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রকল্পের ধরন, জমির পরিমাণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা বিবেচনায় নমনীয় নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে পাঁচ কাঠা বা ছোট আকারের প্রকল্পে এসটিপি স্থাপনের বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে এফএআর বৃদ্ধি, সেটব্যাক সংক্রান্ত বিধান পুনর্বিবেচনা, উচ্চ ভবন নির্মাণের সুযোগ সম্প্রসারণ, প্লটের আকার ও অবস্থান অনুযায়ী নীতিমালার নমনীয় প্রয়োগ, নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আবাসন উন্নয়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।