চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণের পর পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগকালেয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভবনের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে রড। দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। এখন বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বেঞ্চ সরিয়ে শুষ্ক জায়গা খুঁজে বসতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। সেখানেই আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়টি পাঠযোগ্য করতে দ্রুত সংস্কারসহ নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
জানা গেছে, বছরের পর বছর ব্যবহারে ভবনের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছাদের জলরোধী স্তর (রুফ ট্রিটমেন্ট) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবনটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু ছাদই নয়, ভবনের চারটি দরজা ও ৩০টি জানালাও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। এতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হাই বেঞ্চ ও লো বেঞ্চের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট করে পাঠ গ্রহণ করছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য ছয় সেট চেয়ার-টেবিলেরও সংকট রয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনের ছাদের রুফ ট্রিটমেন্ট, চারটি দরজা ও ৩০টি জানালা প্রতিস্থাপন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী পেলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসবে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাওয়া দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ভবনের দরজা-জানালাও নেই। রাতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলোয়ারা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে ভবনের ছাদ সংস্কার, ক্ষতিগ্রস্ত দরজা-জানালা প্রতিস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ এখন সময়ের দাবি।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিন্দোল বারী বলেন, ‘২০২৫ সালে পিডিবি-৪ এর যে বরাদ্দ ছিল তা শেষ হয়ে গেছে, ২০২৬ সালে পিডিবি-৫ এর নতুন বরাদ্দ হবে। যে সমস্ত স্কুলে সমস্যা রয়েছে তার সবগুলো তালিকাবদ্ধ করে আমরা প্রকল্পের জন্য পাঠাব।’