গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে এক মা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে টের পেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় মা ও দুই শিশুসন্তানকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এ সময় হাসপাতালে দুই শিশুর স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হলে তাদের অ্যাম্বুলেন্স করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাদের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন বলছেন চিকিৎসক। তবে আহত মাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বিষপান করা মায়ের নাম মোছাম্মদ মনি আক্তার (৩০)। সে নেত্রকোনা সদর উপজেলার মোবারক হোসেনের স্ত্রী। তাদের অপর দুই শিশু হলো মো. আল আব্দুল্লাহ (৪), মোছা. মাইশা আক্তার (২)। স্বজনরা জানান, মোবারক হোসেন আর মনি আক্তারের পারিবারিকভাবে ৬ বছর আগে বিয়ে হয়েছে। পরে তাদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তবে ছেলেটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু। এর দুই বছর পর মেয়ে মাইশার জন্ম হয়। তারা বলেন, ছোটখাটো নানা কারণেই তাদের মাঝে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। মোবারক শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। মনি আক্তার শিশুদের দেখাশোনা করেন।
স্বামী মোবারক হোসেন বলেন, রাতে অফিস (কর্মস্থল) থেকে বাসায় ফিরে দেখেন তার স্ত্রী ঘরের একপাশে ফ্লোরে পড়ে আছে। অন্য এক পাশে দুই সন্তানও পড়ে আছে। তারা প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়েছিল। এরপর টের পান বিষের (কীটনাশক) গন্ধ। এতে আন্দাজ করা হয় তারা হয়তো বিষপান করেছে। পরে বাড়ির অন্য লোকদের ডেকে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
বাড়ির মালিক বিউটি আক্তার বলেন, দুই মাস হয়েছে মোবারক আর মনি দম্পত্তি তাদের বাসা ভাড়া নিয়েছেন। এরপর মোবারক পাশের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। তাদের ছেলেশিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি বলেন, প্রায় সময় তাদের (স্বামী-স্ত্রী) মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। তাদের মাঝে পারিবারিক কলহ নিয়মিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই কলহের জের স্ত্রী মনি আক্তার তাদের দুই শিশুসন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করে। শিশু দুটির অবস্থা খুবই খারাপ।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তোফায়েল হোসেন জানান, খুবই খারাপ অবস্থায় শিশুদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মাও কীটনাশক পান করেছে। পরে দ্রুত প্রাথমিক কাজ শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে দুটি শিশুর অবস্থায় চরম সংকটাপন্ন। শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের অবহিত করেনি।