মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ ও প্রকৃত শক্তি। কিন্তু সংখ্যায় বেশি হলেই সেই শক্তি তৈরি হয় না। প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা, দক্ষতা ও মূল্যবোধের সমন্বয়। ইসলাম ঠিক এমন মানুষই গড়ে তুলতে চায়। যে সমাজ, দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করবে। ইসলামের দৃষ্টিতে জনসংখ্যা বোঝা নয়, বরং সুশিক্ষা, সুশাসন ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তা একটি জাতির সবচেয়ে বড় জনশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
ইসলাম পরিবার গঠন ও নেক সন্তান লাভকে উৎসাহিত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা স্নেহশীলা ও অধিক সন্তানপ্রসবকারী নারীকে বিয়ে করো। কেননা, আমি কেয়ামতের দিন তোমাদের অধিক সংখ্যার মাধ্যমে অন্যান্য উম্মতের ওপর গর্ব করব।’ (সুনানে আবু দাউদ)
তবে এই অধিক সংখ্যার উদ্দেশ্য কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়। ইসলাম এমন একটি উম্মাহ গড়ে তুলতে চায়, যারা ইমানে দৃঢ়, জ্ঞানে সমৃদ্ধ, কর্মে দক্ষ এবং চরিত্রে আদর্শ হবে। কারণ অদক্ষ ও দায়িত্বহীন মানুষের সংখ্যা বাড়লে সমাজের ওপর বোঝা বাড়ে। আর দক্ষ, সৎ ও কর্মঠ মানুষের সংখ্যা বাড়লে একটি জাতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
একটি আদর্শ সমাজ গঠনের সূচনা হয় পরিবার থেকে। ইসলাম সন্তানকে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে দেখেছে। একই সঙ্গে তাদের সঠিকভাবে লালন-পালনের নির্দেশ দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা তাহরিম ৬)
এই দায়িত্ব শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সন্তানকে সৎ, দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ আজকের শিশুই আগামী দিনের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, আলেম, চিকিৎসক কিংবা রাষ্ট্রনায়ক।
ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া শব্দই হলো, ‘পড়ো।’ (সুরা আলাক ১) জ্ঞান ছাড়া কোনো সমাজ উন্নত হতে পারে না। তাই দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, কৃষি, কারিগরি ও আধুনিক জ্ঞান অর্জনও মুসলিম সমাজের প্রয়োজন। শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠীই একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
ইসলাম কর্মবিমুখতাকে নিরুৎসাহিত করেছে এবং হালাল উপার্জনকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ব্যবসা করেছেন। বহু নবী নিজ হাতে কাজ করেছেন। হজরত দাউদ (আ.) লৌহশিল্পে দক্ষ ছিলেন। হজরত নুহ (আ.) নিজের হাতে নৌকা নির্মাণ করেছিলেন। হজরত মুসা (আ.) রাখালের দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, কর্ম ও দক্ষতা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সম্মানজনক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’ (সহিহ মুসলিম)