পক্ষপাতিত্বের ভয়াবহতা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা থাকে। পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু কিংবা কোনো গোষ্ঠীর প্রতি ভালোবাসা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভালোবাসা যখন সত্যকে আড়াল করে, অন্যায়কে বৈধতা দেয় এবং ইনসাফের পথ থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়, তখন তা ভয়াবহ পক্ষপাতিত্বে পরিণত হয়। ব্যক্তিজীবন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত অসংখ্য সংকটের পেছনে এই অন্ধ পক্ষপাত বড় কারণ। তাই ইসলাম সত্য ও ন্যায়বিচারকে সম্পর্ক, দল কিংবা ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে।

ইসলামে ‘আসাবিয়্যাহ’ তথা অন্ধ গোষ্ঠীপ্রীতি কঠোরভাবে নিন্দিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আসাবিয়্যাহর দিকে আহ্বান করে বা তার ভিত্তিতে লড়াই করে, সে মুসলিম আদর্শ থেকে বিচ্যুত। (সুনানে আবু দাউদ)

কোরআন মজিদে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, কথা বলা, সাক্ষ্য দেওয়া এবং বিচার করার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তা নিজের, পিতা-মাতা কিংবা নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধেও হোক। (সুরা নিসা ১৩৫) এমনকি শত্রুর প্রতিও বিদ্বেষ যেন অন্যায়ের কারণ না হয়, সে নির্দেশও কোরআনে এসেছে। (সুরা মায়েদা ৮)

পারিবারিক জীবনেও ইসলাম পক্ষপাতকে নিরুৎসাহিত করেছে। সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন নবীজি (সা.)। (সহিহ বুখারি, হাদিস) একইভাবে কোনো সংবাদ শুনে যাচাই না করে দলীয় বা ব্যক্তিগত পক্ষ নেওয়ারও অনুমতি নেই। মহান আল্লাহ সংবাদ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকৃত মুমিন কখনো অন্ধ সমর্থক হন না। তিনি প্রিয়জনের অন্যায়কে সমর্থন না করে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করেন। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ হলো সত্য, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর অবিচল থাকা। পক্ষপাত হয়তো সাময়িকভাবে মানুষের প্রশংসা এনে দিতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচারই মানুষকে আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান করে তোলে।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইসলামি গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত