আক্ষেপ আমার অভিধানে নেই

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ এএম

‘চুড়ি ছামছাম’ গানের আকাশচুম্বী সাফল্যের পর আবারও এক ফ্রেমে কণ্ঠশিল্পী জিনিয়া জাফরিন লুইপা ও মডেল-অভিনেত্রী চমক। প্রকাশ পেয়েছে লুইপার নতুন গান ‘মন নিলো সে’। তানভীর আহমেদের সুর ও সংগীতে এবং আবীর হাসানের কথায় গানটি প্রকাশ করেছে এফটিউন। গানটির মিক্স-মাস্টার ও লাইভ ইনস্ট্রুমেন্ট বাজিয়েছেন সালমান জাইম। নতুন গান, ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন জিনিয়া জাফরিন লুইপা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ

নতুন গান ‘মন নিলো সে’ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

খুব অল্প সময়ে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। শ্রোতারা, বিশেষ করে নারী দর্শকরা গানটি খুব পছন্দ করছেন। ‘চুড়ি ছামছাম’ গানের শ্রোতাপ্রিয়তার পর আমরা একই কম্বিনেশনে নতুন কিছু করার কথা ভাবছিলাম। ঠিক তখনই এফটিউন থেকে আমাদের নক করা হয়। তানভীর আহমেরে সুর-সংগীতের পর একে একে পুরো দল আবার এক হলাম। এটি মূলত মিষ্টি ও রোমান্টিক ঘরানার একটি গান।

চমকের সঙ্গে আপনার রসায়নটা বেশ জমে উঠেছে...

চমকের সঙ্গে প্রথম কাজ ছিল ‘চুড়ি ছামছাম’ গানে। এর আগে আমরা কিছু ফটোশুট করেছিলাম। ওই গানের শুটিং সেটে আমাদের চমৎকার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। ‘চুড়ি ছামছাম’ গানের শেষের দিকে আমাদের দুজনের একটি নাচের দৃশ্য ছিল, যা পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের বন্ধুত্বের কমফোর্ট জোন থেকে দৃশ্যটি করা এবং সেটিই দর্শক সবচেয়ে বেশি লুফে নেয়। সেখান থেকেই মূলত ‘গায়িকা ও নায়িকা’ জুটির জন্ম। ‘মন নিলো সে’ গানটি যদি আগের মতো সফল হয়, তবে এই জুটিকে দর্শক সামনে আবারও দেখতে পাবেন।

নিজের চ্যানেল বাদে অন্য ব্যানার থেকে কাজ করার বিশেষ কোনো কারণ?

‘চুড়ি ছামছাম’ হিট হওয়ার পর অনেক কোম্পানিই গানের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, সব গান আমার কণ্ঠে মানাবে না। বর্তমানে আমাদের সিনেমায় দেখা যায় একই শিল্পী সব ধরনের গান গাইছেন। কিন্তু আইটেম সং কিংবা রোমান্টিক গানের জন্য যদি আলাদা ঘরানার শিল্পী নির্বাচন করা হয়, তবে সিনেমার পিকচারাইজেশন যেমন সুন্দর হয়, তেমনি আমরা শিল্পীরাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ করতে পারি। আমি সফট মেলোডি গান দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছি, এই ঘরানাই আমার শক্তি।

সিনেমার গানে এখন আগের মতো ভ্যারিয়েশন বা নতুনরা সুযোগ পাচ্ছে না কেন?

আসলে পৃথিবীটা এখন ছোট হয়ে আসছে। মিউজিক ডিরেক্টররাও হয়তো তাদের কমফোর্ট জোন থেকে বের হতে চান না। একজন শিল্পীর গান হিট হলে তারা ভাবেন পরবর্তী গানটিও তাকে দিয়েই করাবেন। অথচ আগে রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, শাকিলা জাফর কিংবা পুরুষ কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে আব্দুল হাদী, সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোরদের সময়ে গানের ডিমান্ড অনুযায়ী ভয়েস সিলেকশন হতো। এখন সবাই দ্রুত ও সহজে সফলতা পেতে চায়। ডিভাইস-নির্ভরতা আমাদের আবেগ কমিয়ে দিচ্ছে। আমাদের দেশে মানসম্মত শিল্পীর অভাব নেই, পরিচালকদের একটু ভিন্নভাবে ভাবা উচিত।

ইন্ডাস্ট্রিতে ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

আমার মতে, সিন্ডিকেট আসলে খারাপ কিছু নয়। যারা কাজ করতে ভালোবাসে এবং অ্যাকটিভ, তারাই সিন্ডিকেট করে। আপনি যদি ‘আউট অব সাইট’ হয়ে ঘরে বসে থাকেন, যোগাযোগ না রাখেন, তবে কেউ জানবে না আপনি গাইছেন। যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে কাজ হতেই পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে একটু অলস এবং ঘরকুনো স্বভাবের, তাই হয়তো কিছুটা পিছিয়ে আছি।

দীর্ঘ দেড় দশকের ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাবটা কেমন?

সবচেয়ে বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা। অনেক বড় বড় কোম্পানি বা সিনেমায় সুযোগ না পেলেও, নিজস্ব উদ্যোগে যে মৌলিক গান বা কাভারগুলো করি, মানুষ তা দারুণভাবে গ্রহণ করে। ছোটবেলা থেকে যেসব গান শুনে বড় হয়েছি, লোভ সামলাতে না পেরে সেগুলো কাভার করি। আর অপ্রাপ্তি বা আক্ষেপ আমার অভিধানে নেই। কপালে যা আছে, পরিশ্রম করলে তা আসবেই। সিনিয়ররা এখনো লিডিং পজিশনে কাজ করছেন, তাদের দেখে শিখছি।

পুরনো সেই অ্যালবামের দিনগুলো কতটা মিস করেন?

খুব মিস করি। তখন একসঙ্গে দশ-বারোটি গান আসত। কনসার্ট বা লাইভ প্রোগ্রামে নিজের পছন্দমতো গান গাওয়ার সুযোগ থাকত, গানের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকত। ২০১৩ সালে আমার সাতটি মৌলিক গান নিয়ে ‘ছায়াবাজি’ নামে একটি একক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল। অ্যালবামের সেই সোনালি সময়টা সত্যিই দারুণ ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত