২০৩০ বিশ্বকাপ ৬ দেশে

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৫ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০৩০ সালের আসরটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অনন্য এক মাইলফলক। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন করতে বিশ্বকাপের পরবর্তী আসরের তিনটি বিশেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এরপর মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনের মূল পর্বে গড়াবে বিশ্বকাপের বাকি লড়াই। তবে মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচটি কোথায় হবে তা নিয়ে ফিফা এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেয়নি। আর এই সম্মান নিজেদের ঝুলিতে ভরতে মরক্কো ও স্পেন এখন বিভিন্ন কূটনৈতিক ও কৌশলগত লড়াইয়ে একে অপরের মুখোমুখি।

মরক্কোর বাজি তাদের নতুন স্বপ্নপ্রকল্প ‘হাসান ২ স্টেডিয়াম’। কাসাব্লাঙ্কার অদূরে ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ১৫ হাজার। এটি সম্পন্ন হলে ফুটবল বিশ্বে এটিই হবে বৃহত্তম স্টেডিয়াম। অন্যদিকে, স্পেন তাদের ঐতিহ্যের ওপর ভরসা রেখে দুটি শক্তিশালী ভেন্যুকে সামনে আনছে। একটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু (৮৩,০০০ আসন), যার আধুনিকায়ন ২০২৪ সালের শেষের দিকে সম্পন্ন হয়েছে। অন্যটি বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু, যার দর্শক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৫ হাজারে উন্নীত করার কাজ চলছে। তবে ক্যাম্প ন্যু-এর সংস্কারকাজ কিছুটা পিছিয়ে থাকায় সেটি এখন কিছুটা চাপের মুখে।

এই ভেন্যু যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান বেশ স্পষ্ট। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল লুজান শুরু থেকেই সোচ্চার। তার মতে, স্পেনের দীর্ঘদিনের সফল আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘স্পেনের দীর্ঘদিনের প্রমাণিত সাংগঠনিক সক্ষমতা রয়েছে, তাই ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।’ একই সঙ্গে তিনি মরক্কোর সাম্প্রতিক আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্সের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেছেন, রাবাতে সেনেগাল-মরক্কো ম্যাচের সময়কার বিশৃঙ্খলা বিশ্ব ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছে।

তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিপরীতে মরক্কো বেশ সংযত। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ফৌজি লেকজা সরকারি টেলিভিশনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘ফাইনাল ম্যাচ কোথায় হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্বাগতিক তিন দেশ ও ফিফার আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’

কিন্তু নেপথ্যে ঘটনাপ্রবাহ ভিন্ন। আফ্রিকার ফুটবলের উচ্চপদস্থ সূত্রের মতে, কাসাব্লাঙ্কায় ফাইনাল আয়োজনের জন্য পর্দার আড়ালে মরক্কো জোর লবিং চালাচ্ছে। যদি কাসাব্লাঙ্কা শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়, তবে ২০১০ সালের জোহানেসবার্গের পর এটি হবে আফ্রিকান কোনো শহরের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের গৌরব। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন বিশ্বকাপ হয়েছিল, তখন জোহানেসবার্গেই স্পেন তাদের প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল। এছাড়া এর আগে ১৯৮২ সালে স্পেন যখন এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, তখন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে, যেখানে ইতালি জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে।

এদিকে তিন মহাদেশে খেলা হওয়ায় যাতায়াতের বাড়তি চাপ সামলাতে ফিফা তৈরি করেছে একটি সুপরিকল্পিত সময়সূচি। বিশেষ এই সূচিতে দক্ষিণ আমেরিকার ম্যাচগুলোতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগেই দক্ষিণ আমেরিকার এই ম্যাচগুলো সম্পন্ন হবে। ৮-৯ জুন ২০৩০-এ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শতবর্ষের উৎসব। এরপর ১৩-১৪ জুন মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে বিশ্বকাপের মূল আসর যাত্রা শুরু করবে।

ছয় দেশের এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি হবে ২১ জুলাই ২০৩০ তারিখে। কৌশল আর ঐতিহ্যের এই লড়াইয়ে ফিফা শেষ পর্যন্ত কার দাবিকে প্রাধান্য  দেবে বা কোন দেশ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের সেই বিশেষ মুহূর্তটির সাক্ষী হবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত