শেষ ওভারে নাটক

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ এএম

হঠাৎই শেখ মেহেদী হাসানের দিকে তেড়ে যান ব্র্যান্ড ইভান্স। বাংলাদেশি ব্যাটার তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও কাজ হচ্ছিল না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে জিম্বাবুয়ে দলের খেলোয়াড়রা ছুটে যান তাদের এই সতীর্থ বোলারকে থামাতে। কিন্তু তারাও পারছিলেন না। গতকাল বুলাওয়েতে নাটকীয়তায় ভরা শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচে এমন পরিস্থিতির ঠিক আগে ইভান্সের একটি ফুলটস বলে চার মেরে ৪ উইকেটে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী। এরপর হয়তো বোলারকে উদ্দেশ করে কিছু একটা বলেন তিনি।

তবে এর সূত্রপাত আরেকটু আগে। ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটিতে সহজ জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে দ্রুত কিছু উইকেট হারালে শেষ ওভারে গড়ায় ম্যাচের ভাগ্য। ৬ বলে প্রয়োজন ৫ রান। ইভান্সের করা প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন তামিম। পরের দুই বলে আউট হন মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। হ্যাটট্রিকের আশায় করা চতুর্থ বলটি সরাসরি মেহেদীর প্যাডে লাগলে আউটের আবেদন করেন জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা। কিন্তু বল করার সময় ব্যাটসম্যানের সামনে দিয়ে নড়াচড়া করেন একজন ফিল্ডার। এজন্য ‘ডেড’ ঘোষণা করেন ফিল্ড আম্পায়ার। সেটি নিয়ে ইভান্সের সঙ্গে কিছুটা তর্কে জড়ান মেহেদী ও তামিম। ঠিক পরের বলেই বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশকে জেতান মেহেদী। এতে সফরের শুরুটা ভালো না হলেও জয় দিয়ে শেষটা রাঙিয়ে এবার দেশের বিমান ধরবেন তাওহীদ হৃদয়রা।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের এই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ হারের পর আমরা একটি বৈঠক করি। সেখানে কন্ডিশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কীভাবে সামনে এগোব, সেটি নিয়ে পরিকল্পনা করেছি। এরপর ছেলেরা সত্যিই দারুণ খেলেছে। ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই। সর্বশেষ দুই ম্যাচে আমরা আধিপত্য দেখিয়েছি এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছি।’

তবে জয়ের ভিতটা মূলত বোলাররাই গড়ে দেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সামনে ডিওন মেয়ার্সের ফিফটির পরও ৭ উইকেটে ১৪৩ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। পরে জবাব দিতে নেমে ৫৮ বলে অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়া তামিম বোলারদেরই কৃতিত্ব দেন, ‘আমরা সিরিজ জিতেছি, অনুভূতিটা অসাধারণ। আমাদের বোলাররা দারুণ কাজ করেছে। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে আমরা সর্বশেষ দুটি সিরিজ হেরেছি। তাই শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করা সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। দলের সবাইও এই মুহূর্তটা উপভোগ করছে।’

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে (৪) আউট করেন মেহেদী। তার আগে ফিরতে পারতেন বেনেট। তবে ইনিংসের প্রথম ওভারে শূন্য রানে তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। সুযোগ পেয়ে দ্বিতীয় উইকেটে মায়ার্সের সঙ্গে ৭১ রানের জুটিতে ব্যক্তিগত ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। তাকে থামান সাইফউদ্দিন। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সঙ্গে ৩০ রানের জুটির মাঝে ফিফটি পূর্ণ করেন মায়ার্স। তবে সুবিধা করতে পারেননি রাজা। মাত্র ৩ রান করে রিশাদ হোসেনের শিকারে পরিণত হন। রায়ান বার্লও (৭) দায়িত্ব নিতে পারেননি। তাকে আউট করেন এই সফরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ইভান্স (১) রান আউট হলে বড় রানের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় স্বাগতিকদের। যদিও একপ্রান্ত ধরে রাখেন মায়ার্স। তার ৫৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংসের পরও দেড় শ রানের আগে থামে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক ২ উইকেট নেন মিডিয়াম পেসার সাইফউদ্দিন।

তুলনামূলক ছোট লক্ষ্য তাড়ায় যেমন দাপুটে জয় পাওয়ার কথা ছিল, সেটা আদায় করে নিতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারে ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হন ওপেনার সাইফ হাসান। এরপর পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তামিম। তবে চাপের মুখে রান বের করতে পারছিলেন না তারা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আর কোনো উইকেট না হারালেও মাত্র ৩০ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর অবশ্য রান তোলার গতি কিছুটা বাড়ান দুজন। কিন্তু থিতু হতে পারেননি ইমন। ২৪ রানে আউট হন তিনি। ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫ রানের জুটি। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয়কে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তামিম। কিন্তু শেষ করে আসতে পারেননি হৃদয়। তিনিও ২৪ রানে থামলে ভাঙে ৬৩ রানের জুটি। এর আগেই অবশ্য এই সফরে নিজের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন তামিম। পরে ইয়াসির আলী রাব্বিও ১০ রান করে আউট হন। তবু শেষ ওভারের নাটকে জয়ের হাসি বাংলাদেশেরই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (মায়ার্স ৭৩, বেনেট ৪৭, সাইফুদ্দিন ২/৩৫, রিশাদ ১/২৮, শেখ মেহেদি ১/৩১, সাকলাইন ১/৩১।

বাংলাদেশ : ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (তানজিদ ৬৬, হৃদয় ২৪, পারভেজ ২৪, এনগারাভা ২/২০, ইভান্স ২/২৬, রাজা ২/৩৮।

ফল : ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ ও সিরিজ সেরা : তানজিদ হাসান তামিম

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত