পণ্যের হালাল সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) বিরুদ্ধে কারখানা পরিদর্শনের সময় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সার্টিফিকেট প্রদানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়ার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছে বিএসটিআই। তবে যানবাহন-স্বল্পতার কারণে কখনো কখনো ঢাকা মহানগরীতে কারখানা পরিদর্শনের সময় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব যানবাহনে অডিট টিম সংশ্লিষ্ট কারখানায় যান বলে স্বীকার করেছে বিএসটিআই।
গতকাল রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে এসব কথা তুলে ধরেছে বিএসটিআই। এর আগের দিন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) ‘হালাল ফর এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন’ শীর্ষক একটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনটির তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য দিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।
সেই অনুষ্ঠানে বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) খুরশীদ আহমেদ ফরহাদ জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই থেকে হালাল সনদ নিতে উচ্চ ফি, বারবার কারখানা পরিদর্শন এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সনদ জমা দিতে হয়।
তিনি বলেন, কয়েকটি পণ্যের জন্য শুরুতে ১৬-১৮ লাখ টাকা ফি দিতে হয়েছে। ফি অর্ধেক করা হলেও এবারও প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জমা দিয়ে এখনো সনদ পাননি। এ ছাড়া হেভি মেটাল ও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ-সংক্রান্ত এমন কিছু পরীক্ষার সনদ চাওয়া হচ্ছে, যেগুলোর সুবিধা দেশে নেই।
তিনি বলেন, হালাল সার্টিফিকেট নিতে গেলে ‘নন হালাল যে অ্যাকটিভিটি আছে (ঘুষ)। এটা দিতে হয়।
একই অনুষ্ঠানে বিসিআইয়ের পরিচালক ও ইজি ফুডের চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার বলেন, বিএসটিআই ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে হালাল সনদ নিতে গেলে তারা বলে আমাদের একটি গাড়ি দাও, আমাদের বড় টিম যাবে পরিদর্শনে। তার পর ওখানে খাওয়াতে হবে। ঠিক আছে এর পর তারা বছরে ২০০ টন রপ্তানির ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা ফি চায়। এভাবে যদি পণ্যের জন্য টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট আনতে হয় সেই সার্টিফিকেট আমার দরকার নেই।
এর প্রতিবাদে বিএসটিআই জানায়, ঢাকার মধ্যে বিএসটিআই কোম্পানির গাড়ি ব্যবহার করলেও বিভাগীয় ও বিভিন্ন জেলা শহরে কারখানা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে অডিট টিম নিজস্ব ব্যয়ে বাস বা ট্রেনে যাতায়াত করে পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করে। হালাল সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে গাড়ি চাওয়ার প্রসঙ্গটি অবান্তর।
বিএসটিআই জানায়, হালাল সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা রপ্তানিকারকদের কাছে সরকারি নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত অর্থ, অনুদান অথবা রপ্তানিকৃত পণ্যের পরিমাণ (টনভিত্তিক) অনুযায়ী অর্থ দাবি করে থাকে বলে তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে হালাল সনদ নিতে গাড়ি চাওয়া এবং ঘুষ নেওয়ার মতো মন্তব্যও করা হয়েছে।
বিএসটিআই এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করছে এবং এ অসত্য সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
গণমাধ্যমের সংবাদে ইজি ফুড লিমিটেড এবং বম্বে সুইটস লিমিটেডের পক্ষে যারা বক্তব্য দিয়েছেন সেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিএসটিআই বলছে, এই প্রতিষ্ঠান দুটি বিএসটিআই-এর কাছে হালাল সনদের জন্য কোনো আবেদনই করেনি। স্বাভাবিকভাবেই বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠান দুটিকে কোনো হালাল সার্টিফিকেট প্রদান করাও হয়নি।
প্রবিধানমালা অনুযায়ী, হালাল সার্টিফিকেট গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আবেদন ফি নেই। ফি ধার্য করে বিল প্রণয়ন করা হয়। এই ফি-এর পরিমাণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য ১ হাজার টাকা, মাঝারি শিল্পের জন্য ৩ হাজার টাকা এবং বৃহৎ শিল্পের জন্য ৫ হাজার টাকা। বিল পরিশোধের পর প্রতিষ্ঠানকে কিউআর কোড-সংবলিত হালাল লাইসেন্স প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি টনের বিপরীতে কোনো ফি বা রাজস্ব আদায় করার কোনো বিধান নেই।
বিএসটিআই দাবি করে, উল্লিখিত দুটি কোম্পানির প্রতিনিধি এ ধরনের বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তারা উভয়েই বিএসটিআইকে জানিয়েছেন গণমাধ্যমে তাদের বক্তব্য যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা সঠিক নয়।