সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী

২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অর্থ লোপাট হয়েছে

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

ফিফা আয়োজিত ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচারস্বত্ব কেনা-বেচায়ও তৎকালীন সরকার রাষ্ট্রের অর্থ লোপাট করেছিল বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, চলতি বছর বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রচারস্বত্ব কিনে সরকার দেশীয় চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করার মাধ্যমে আয়-ব্যয়ে সমতা আনার চেষ্টা করেছে। এতে লোকসান নামবে প্রায় শূন্যের কোঠায়।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর খেলা সম্প্রচার নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহে আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবার ফিফার কাছ থেকে সরাসরি ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে মিডিয়া রাইটস কিনেছে। প্রতি ডলারের বিনিময় হার বিদ্যমান ১২৩ টাকা দরে এ বাবদ মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে দেশের চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করে এর প্রায় পুরো অর্থই আদায় করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উদ্যোগে সাব-লাইসেন্সিং দেওয়া হয়। ফলে, ফিফার পাওনা পরিশোধের পরও যে টাকার ঘাটতি রয়েছে, সেটিও সাব-লাইসেন্সিং থেকে আদায় করা হবে। ফলে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সরকারের আর্থিক ব্যয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হলেও তা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। ওই সময় বিটিভি ৯৮ কোটি টাকায় সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল এবং বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর কাছে আরও প্রায় ৩৯ কোটি টাকায় বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। তখনকার সরকারের ঘনিষ্ঠরা ছিল সেই মধ্যস্বত্বভোগী। দুর্নীতির মাধ্যমে এই অর্থ লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এবার সরকার সরাসরি ফিফার সঙ্গে চুক্তি করায় মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ তৈরি হয়নি। এটি জাতির জন্য একটি সুখবর। ফলে এবার সরকারের রাজস্বের ওপর কোনো চাপ পড়েনি। এর ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় হয়েছে এবং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীও নির্বিঘ্নে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচার ব্যবস্থাপনায় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ২০২২ সালের সম্প্রচারস্বত্ব কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুদকও একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে তথ্য মন্ত্রণালয় দুদকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করবে।

তথ্য সচিব মো. শাহে আলম বলেন, সম্প্রচারের সময় বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কা ছিল। তবে বিটিভির প্রকৌশলী, টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সম্প্রচারস্বত্বের শর্ত অক্ষুন্ন রেখে সফলভাবে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করা হয়েছে।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দল বাংলাদেশে আনা প্রসঙ্গ : সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো জনপ্রিয় ফুটবল দলকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে যুক্ত করে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার এই ধারণাটি চমকপ্রদ। বিষয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, তরুণদের খেলাধুলায় আরও সম্পৃক্ত করতে সরকার ‘স্পোর্টস কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করছে। খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন নয়, সম্ভাবনাময় তরুণদের পেশাগত বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

এ ছাড়া, ডিজিটাল যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টেলিভিশনের জন্য নতুন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির লক্ষ্যে একটি ‘নিউ মিডিয়া’ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তার আশা, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই প্রকল্পটির কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত