৭৬ শতাংশ টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম

দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টের প্রতি চারটির মধ্যে প্রায় তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) এক গবেষণায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে ২৬টিতে, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যে এ হার আরও বেশি। শিশুদের টুথপেস্টেরও ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করে ইএসডিও।

গবেষণায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর ভোক্তা জরিপ চালানো হয়।

গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশে ১৬০টি করে এবং কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি কণা পাওয়া গেছে। তবে আটটি নমুনায় কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি। বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। ভিয়েতনামের দুটি নমুনার দুটিতেই, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে এ কণা পাওয়া গেছে। শিশুদের ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ১৪০টি কণা পাওয়া গেছে।

ইএসডিওর মহাসচিব শাহরিয়ার হোসেন বলেন, সব নমুনা সরাসরি সুপারশপ ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে গবেষণায় নকল বা ভেজাল পণ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, প্রতিদিন ব্যবহৃত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে, এ বিষয়ে অধিকাংশ ভোক্তাই জানেন না। তাই পণ্যের উপাদান উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করা জরুরি।

ভোক্তা জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়ে আগে কখনো শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ এ বিষয়ে শুনলেও বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ নিজেদের সচেতন বলে জানিয়েছেন।

বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, টুথপেস্টের জাতীয় মানে বর্তমানে ৪০টি অনুমোদিত উপাদান ও কণার আকারের সীমা নির্ধারিত রয়েছে। কম খরচে ওজন বাড়াতে কিছু উৎপাদক মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করতে পারেন, যা ‘খারাপ চর্চা’। তিনি জানান, টুথপেস্টের মান সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করবে বিএসটিআই।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টুথপেস্ট থেকে নির্গত মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে ছড়িয়ে খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ইএসডিও বলেছে, দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। বর্তমানে এ বিষয়ে জাতীয় মানদ-, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষাপদ্ধতি বা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত