‘উৎসবে, গর্বে, দায়িত্বে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ঢাকা নাট্যোৎসব ২০২৬’। আজ ১৬ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকার সূত্রাপুরে অবস্থিত জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে বসবে ৮ দিনব্যাপী এই নাট্যপার্বণ। ১৬ আগস্ট বিকেল ৫টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। নাট্যোৎসব ২০২৬ সমন্বয় পর্ষদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন নাট্যজন খন্দকার শাহ আলম ও ডিএসসিসির নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমানসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
নাট্যোৎসবের মূল লক্ষ্য কেবল নতুন নাটক পরিবেশন নয়; বরং দীর্ঘদিন পর জহির রায়হান মিলনায়তনকে নতুন উদ্যমে সচল করা এবং সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নগরবাসীর মনে ঢাকার আবহমান ঐতিহ্যের প্রীতি জাগিয়ে তোলা। পুরো আয়োজনজুড়ে প্রতিদিন মূল মিলনায়তনে নাটকের পাশাপাশি বিকেল থেকেই হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে উন্মুক্ত সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশনা।
উৎসবে মঞ্চস্থ হতে যাওয়া আটটি নাটকের মধ্যে রয়েছে মতিউর রহমান রানার নির্দেশনায় গ্রন্থিক নাট্যদলের ‘গিরগিটি’, হামিদুর রহমান পাপ্পুর নির্দেশনায় শৌখিন নাট্যদলের ‘অন্তরালে আয়না’, সূচনা তিসার নির্দেশনায় মৈত্রী থিয়েটারের ‘রঙিলা ফানুস’ এবং এস কে রতনের নির্দেশনায় নবনাটের ‘ভেলকি’। এ ছাড়া খোরশেদুল আলমের নির্দেশনায় শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র পরিবেশন করবে ‘চম্পাবতী’, গোলাম সারোয়ারের নির্দেশনায় ঢাকা থিয়েটার মঞ্চ আনছে ‘ঘরজামাই’, শওকত হাসানের নির্দেশনায় স্বরবিথী থিয়েটার পরিবেশন করবে ‘শাস্তি’ এবং শুভাশীষ দত্ত তন্ময়ের নির্দেশনায় মেঘদূত নাট্য সম্প্রদায় মঞ্চস্থ করবে ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’।
আয়োজন প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, জীবিকা, শিক্ষা কিংবা জন্মসূত্রে বহু মানুষ এই শহরে বাস করলেও শতবর্ষী ঢাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর নাড়ির টান না থাকায় নাগরিক হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষা ও ট্রাফিক নিয়মের মতো বিষয়ে পূর্ণ দায়বদ্ধতা তৈরি হচ্ছে না। নাগরিকদের মধ্যে ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরে নগরের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ ফিরিয়ে আনতেই এই নাট্যোৎসবের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাট্য নির্বাচন প্রসঙ্গে উৎসবের সমন্বয়কারী নাট্যজন খন্দকার শাহ্ আলম জানান, প্রদর্শনীতে মূলত আদি ঢাকার ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্বকারী নাটকগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বহিরাঙ্গনের আবৃত্তি ও সংগীতে পুরনো ও নতুন ঢাকার আবহ ফুটিয়ে তুলে নগরবাসীকে একটি আনন্দমুখর ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা দেওয়াই এই পর্ষদের মূল প্রচেষ্টা।