সার সংকটে ছড়াচ্ছে অস্থিরতা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ এএম

ইউরিয়া, নন-ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহের কথা সরকারের দপ্তরগুলো থেকে জানানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এখনো অধিকাংশ কৃষকই আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনছেন। কোথাও কোথাও আবার সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগও রয়েছে। সারা দেশেই কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিসূত্রে জানা গেছে, ডিএপি সারের পর্যাপ্ত মজুদের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের বিতরণ শেষ হলে আগামী অক্টোবরে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সরকারের কাছে নেই। অথচ আগামী মাসেই অন্তত দেড় লাখ টন ডিএপির চাহিদা রয়েছে।

এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের সারের জন্য রাস্তা অবরোধ, আন্দোলনসহ নানা কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে গতকাল কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে দেরি হওয়ায় এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছেন কৃষক। গতকাল সোমবার বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটেছে। মিতা হাসান এন্টাপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, গুদাম থেকে অন্তত দেড়শ বস্তা সার নিয়ে গেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। একই দিনে ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কৃষক। সে সময় তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করেও রেখেছিলেন। জানা গেছে, গতকালের এ ঘটনার ঠিক ১৫ দিন আগে ভূরুঙ্গামারীতে সার লুটের ঘটনা ঘটেছিল। কৃষকরা সরবরাহ না পেয়েই গুদাম ভেঙে সার নিয়েছিলেন।

১৫ দিন আগের এ ঘটনা ঘটার পর সারা দেশে নজরদারি বাড়িয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে করা হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। অনেক ডিলারকে অবৈধভাবে সার মজুদের জন্য জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তবে ডিলারদের কারসাজিতে এখনো অসহায় কৃষক। বেশির ভাগ জায়গাতেই সার বিতরণ নিয়ে বিশৃঙ্খলার খবর মিলছে। এখনো বেশি দামেই সার কিনছেন কৃষক।

সরকারের কাছে সারের সংকট : সরকারি দপ্তরগুলো যেসব তথ্য সরবরাহ করছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ও মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও কেন মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা কাটছে না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

গত রবিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সারের মজুদের যে চিত্র তুলে ধরেছে, তাতে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৩ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন সার রয়েছে। যেখান থেকে চলতি মাসের বরাদ্দে ১ লাখ মেট্রিক টন ব্যবহৃত হলে তা নেমে আসবে ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ সামনের মাসেও ঘাটতি হওয়ার সুযোগ কম। কৃষি মন্ত্রণালয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য বেসরকারিভাবে ৫ লাখ টন ডিএপি আমদানির একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএডিসির কাছে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিএপি সার মজুদের পরিমাণ মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন। এতে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এ সার দিয়ে শুধু চলতি মাসের চাহিদাই পূরণ করা সম্ভব। আগামী মাস থেকে তৈরি হওয়া বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়ার পরিস্থিতি নেই। এর জন্য দ্রুত বেসরকারি খাতের আমদানি অনুমোদন করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী মাসে প্রায় দেড় লাখ টন ডিএপি সারের চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা পূরণের জন্য সরকারের কাছে থাকবে ৪১ হাজার মেট্রিক টন সার। মরক্কো থেকে ৩০ হাজার মে টন সার নিয়ে একটি জাহাজ রওনা হয়েছে। এটি সময়মতো সরবরাহ চেইনে যুক্ত হলে মজুদ গিয়ে দাঁড়াবে ৭০ হাজার টনে। মরক্কো থেকে সমপরিমাণে দুটি লটের ডিএপি সার কেবল জাহাজীকরণ করা শুরু হয়েছে, যা সরবরাহ চেইনে আসতে আসতে অক্টোবরের ৪০ থেকে ৪৫ দিন বা তারও বেশি সময় লাগবে। সে হিসেবে শঙ্কা রয়েছে এই দুই লটের সার অক্টোবরে হয়তো সরবরাহ চেইনে যুক্ত হবে না। অর্থাৎ আগামী মাসে ডিএপি সারের বড় সরবরাহ সংকট তৈরির শঙ্কা রয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে অন্য সারগুলোর দামে। 

কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের কাছে এসব বিষয়ে জানতে ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালে তারও জবাব দেননি।

তবে এর আগে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। একটি সিন্ডিকেট সারা দেশে অরাজকতা তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ এর পর থেকে অবশ্য সারা দেশে মনিটরিং জোরদার হয়েছে কিন্তু পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ আমলে ডিলারদের একটি সিন্ডিকেট সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সারা দেশে আরও বেশি অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। 

বেসরকারি আমদানিতে দেরি : সরকারিভাবে প্রতি বছর সাড়ে ৯ লাখ টন নন-ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়। এবারও সমপরিমাণ সার আমদানির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত আগস্টে দেওয়া দরপত্রে চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়া বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা ডিএপি, এমওপি এবং টিএসপি আমদানির এলসি খোলা শুরু করতে পারেনি। সরকার এ বছর ৫ লাখ টন ডিএপি, ২ লাখ টন টিএসপি এবং আড়াই লাখ টন এমওপি সার আমদানি করবে।

জানা গেছে, আগামী অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক সিজনে শুধু ডিএপি সারের চাহিদা রয়েছে ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। এ আমদানি দেরি হওয়ায় সারের এ সংকট পিক সিজনেও পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

তবে সারের এ সংকটের মধ্যে বেসরকারি আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করতে অনেক দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে এই আমদানির দরপত্র আহ্বান এবং জুনের মধ্যে কার্যাদেশ দেওয়ার রীতি ছিল। কারণ বেসরকারি আমদানির মাধ্যমে যে সার দেশে আসে তা সরবরাহ চেইনে যুক্ত হতে ৮০ থেকে ৯০ দিন সময় লেগে যায়।

এ রীতি পাল্টানো শুরুর দায়িত্বে ছিল অন্তবর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া সাবেক কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান ও তার সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগ আমলের এ সিন্ডিকেটটি শেখ হাসিনার পতনের ক্ষোভে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে দেশে সারের ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের সংকট তৈরির পাঁয়তারা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মিয়ান সিন্ডিকেট তার সময়ে পাওয়া দুটি মৌসুমে এ টেন্ডার প্রক্রিয়া পেছাতে পেছাতে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে নিয়ে গেছে। যারা প্রভাবে সার আসতে দেরি হয়েছে এবং সারা দেশে বেশি দাম দিয়ে কৃষককে সার কিনতে হয়েছে। এখনো এর ধারাবাহিকতাতেই নতুন নেতৃত্ব দেরি করে দরপত্র দিয়েছে এবং এখনো কার্যাদেশ দিতে পারেনি। অথচ মার্চ এপ্রিলে দরপত্র ডেকে দ্রুত কার্যাদেশ দিলে এখন সরকারের হাতে ডিএপি, টিএসপি সারের সংকট হওয়ার সুযোগ থাকতো না বলে মনে করেন মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা।

বিএনপি সরকার আসার পর এই এমদাদ উল্লাহ মিয়ানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলেও তার সিন্ডিকেটের লোকবল এখনো মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে আমন মৌসুমের শুরু থেকে সার নিয়ে সারা দেশে অরাজকতা তৈরি হওয়ার পরও সরকার সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ইমাম ফয়সালকে সরিয়ে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করে। তার সঙ্গে সেই বিভাগের যুগ্মসচিবকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এখনো মিয়ান সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মো. খোরশেদ আলম (আগে সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব ছিলেন) কৃষিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মিয়ানের পিএস মো. মাকছুদুল ইসলাম। যারা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা কয়েক বছর ধরেই করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যাদের প্রভাবে মৌসুমে ডিলার নিয়োগের নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকার আরও বেকায়দায় পড়েছে।

এসব কর্মকর্তার দেখানো পথে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয় বেসরকারি আমদানিতে যেতে অনেক দেরি করেছে এবং সারা দেশে সার ব্যবস্থাপনায় সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার : দেশ রূপান্তরের রংপুর প্রতিনিধি তাজিদুল ইসলাম লাল কৃষক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরা একেক পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। জানা গেছে, রংপুরে টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট রয়েছে।

জানা গেছে, কৃষকরা গত আগস্ট মাসে ইউরিয়া ও এমওপি সার চাহিদা অনুযায়ী পেলেও বাকি টিএসপি ও ডিএপি সার দুটি অনেক কৃষক সংগ্রহ করতেই পারেননি। তারা ওই সার দুটি ছাড়াই আমনের আবাদ করছেন এবং ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সেপ্টেম্বর মাসেও টিএসপি ও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

রংপুর নগরীর ৬নং ওয়ার্ডের কৃষক মোনাজাত উদ্দিন জানান, তিনি সাত বিঘা (৩৩ শতকে বিঘা) জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। পরে ইউরিয়া ও এমওপি সার পেলেও ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ধরনা দিয়েও টিএসপি ও ডিএপি সার কিনতে পারেননি।

পরশুরাম থানাধীন ২৪ হাজারী এলাকার কৃষক মমিন মিয়া জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে সার প্রয়োগের সময় ছিল। সে সময়ে তিনি চাহিদা মোতাবেক ইউরিয়া ও এমওপি সার পেয়েছেন। তবে টিএসপি ও ডিএপি সার ডিলারদের কাছে গিয়ে না পেয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করেছেন। পরে তিনি এক বস্তা (৫০ কেজি) টিএসপি ১৬০০ টাকা এবং ডিএপি ১৪০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। অথচ টিএসপির সরকারি মূল্য ১৩৫০ টাকা এবং ডিএপি প্রতি বস্তার দাম ১০৫০ টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ভরা মৌসুমে ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। তারা এলাকায় সারবাহী ট্রাক ঢুকার আগেই বাইরে বেশি দামে বিক্রি করেন। তিনি আরও বলেন, আমি নিজেই ১ বস্তা টিএসপি সার ১৪০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা এবং ডিএপি সার ১৩০০ থেকে ১৬০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে বিক্রি করছি। এক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে (৫ কেজিতে) মোট দামের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা লাভে বিক্রি করি।

রংপুর মহানগরীর পরশুরাম থানাধীন বুড়িরহাট বাজারের ডিলার মেসার্স আব্দুস সালামের প্রোপ্রাইটর আব্দুস সালাম দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা সরকার-নির্ধারিত দাম অনুযায়ী রাসায়নিক সার বিক্রি করছি। তবে চাহিদা অনুযায়ী টিএসপি ও ডিএপি না থাকায় অনেক কৃষক কিনতেই পারেনি।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (রংপুর অঞ্চল) মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, এক শ্রেণির মানুষ আছে সরকারকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে সংকট তৈরি করছেন। এতে করে সাধারণ কৃষক আতঙ্কিত হচ্ছেন।

এই অবস্থা শুধু রংপুরের নয়, উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশের। তবে সরকারের মনিটরিংয়ের কারণে কোনো কোনো স্থানে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি হলেও তার পরিমাণ সামান্য। বেশির ভাগ স্থানেই বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজশাহী প্রতিনিধি আহসান হাবিব অপু জানিয়েছেন, কৃষক চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে তার দামও বেশি। প্রতি বস্তা টিএসপি কিনতে হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়, ডিএপি এলাকাভেদে ১৭০০ থেকে ২১০০ টাকায়, ১ হাজার টাকা বস্তার এমওপি কিনতে হচ্ছে কমপক্ষে ১২০০ টাকায়। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সার সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি হাসান ফয়জী সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা ঘুরে জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ সারের সংকট নেই বললেও বাজারে প্রয়োজনীয় সার কিনতে কৃষক হিমশিম খাচ্ছেন। এখানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, টিএসপিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, এমওপিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা এবং ডিএপিতে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে।

নাটোর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম কথা বলেছেন দিঘাপতিয়ার কার্যধারী খুচরা বিক্রেতা মেসার্স জলিল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জলিল সরকারের সঙ্গে। তিনি জানান, ডিলারদের কাছ থেকেই অতিরিক্ত দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এর মধ্যে তিনি প্রতি বস্তা ডিএপি সংগ্রহ করেছেন ১৬৫০ টাকা দরে। বিক্রি করতে হচ্ছে আরও বেশি দাম দিয়ে।

সরেজমিনে ঘুরে একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলার প্রতিনিধিরা। তারাও বেশি দাম দিয়েই সার বিক্রির তথ্য জেনেছেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত