রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ এএম

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন এবং দেশে যৌথ উদ্যোগে ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনসহ জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাপানের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, দ্রুত প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই বাস্তবতায় রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের স্বার্থেই তাদের দ্রুত স্বদেশে ফিরে যাওয়া জরুরি। বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন ও পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া সংকট নিরসনে মিয়ানমার সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করলেও জানান যে, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, সংকট সমাধানে তিনি ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়ে পূর্ণ সমবেদনা জানিয়ে জাপানের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিনিয়োগ ও স্বাস্থ্য খাত : বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন  প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে জাপানের সহযোগিতা চান। বিশেষ দূত এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার কথা জানান। এ ছাড়া দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত