সাক্ষরতার নতুন চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ এএম

নিজের নাম লিখতে পারেন, পত্রিকা পড়তে পারেন, মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথাও বলেন; কিন্তু সেই মোবাইলেই আসা ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) কী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠাতে হলে কোন অপশনে যেতে হয় কিংবা ফেসবুকে পাওয়া কোনো খবর সত্য না মিথ্যা তা জানেন না দেশের একটা বড় অংশের মানুষ। মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব এবং প্রযুক্তি জ্ঞানার্জনে সক্ষমতার অভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও ডিজিটাল দুনিয়ায় পুরোপুরি স্বনির্ভর হতে পারছেন না অনেক মানুষ।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বদিরগাঁও গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব মজনু বিবির চিত্র আরও করুণ। তিনি নিজের নামও লিখতে পারেন না। মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাতি-নাতনিদের সহযোগিতা নিতে হয় তাকে। মজনু বিবির পাঁচ ছেলের বউ অবশ্য স্বাক্ষর করতে পারেন। তারা পড়তেও পারেন। প্রবাসী স্বামীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো ব্যবহার করেন। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কীভাবে টাকা পাঠাতে হয়, ফোনে আসা ওটিপি কী কিংবা সেটি অন্য কাউকে দেওয়া যাবে কি না এসব বিষয়ে তাদের ধারণা নেই। এই সুযোগে এই পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার প্রতারকের খপ্পরে পড়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা হারিয়েছেন।

ডিজিটাল কোনো কাজ করতে হলে, শেষ পর্যন্ত পরিবারের স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের সহযোগিতা নিতে হয় তাদের। শুধু এই পরিবার নয়, বদিরগাঁও গ্রামের বেশিরভাগ মধ্যবয়সী ও বয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে একই ধরনের বাস্তবতা দেখা যায়।

শুধুই অক্ষরজ্ঞান কি এখন যথেষ্ট : দেশে সাক্ষরতার হার বাড়ছে। মানুষ পড়তে ও লিখতে পারছে। কিন্তু দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে শুধু অক্ষরজ্ঞানই কি যথেষ্ট?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য উদ্ধৃত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ গতকাল সোমবার জানিয়েছেন, দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে সাক্ষরতার নতুন চ্যালেঞ্জ ৭৭.৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাক্ষরতা মূল্যায়ন জরিপ অনুযায়ী, দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের সাধারণ সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। তবে কার্যকরী সাক্ষরতার হার ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু পড়তে বা লিখতে পারাই যথেষ্ট নয়; দৈনন্দিন জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগ করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল যুগে সেই প্রয়োগের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। সরকারি সেবা, সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা, ব্যাংকিং, চিকিৎসা, কেনাকাটা, বিল পরিশোধ কিংবা যোগাযোগ জীবনের নানা ক্ষেত্রে মানুষকে এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু অক্ষরজ্ঞান ও ডিজিটাল দক্ষতার মধ্যে তৈরি হচ্ছে নতুন এক ব্যবধান।

বিবিএসের আইসিটি সুবিধা ও ব্যবহার বিষয়ক জরিপ ২০২৫-২৬-এর সাম্প্রতিক তথ্যেও দেশের ডিজিটাল ব্যবহারের বিস্তারের চিত্র পাওয়া যায়।

২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ এখনো ইন্টারনেটের বাইরে।

অন্যদিকে, দেশের ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারের কাছে অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে। প্রায় ৭৩ শতাংশ পরিবারের কাছে রয়েছে স্মার্টফোন। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হার মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ।

একটি পরিবারের হাতে স্মার্টফোন থাকা মানেই পরিবারের সদস্য অনলাইনে সরকারি সেবা নিতে, অনলাইন ফরম পূরণ করতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ভুয়া তথ্যের পার্থক্য বুঝতে পারবেন কিংবা সাইবার ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। মজনু বিবির পরিবারের অভিজ্ঞতা সেই ব্যবধানেরই বাস্তব উদাহরণ।

দেশের এই বাস্তবতা স্বীকার করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় শুধু সাক্ষরতা দিয়ে চলবে না, আমাদের প্রয়োজন দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা। তা ছাড়া সাক্ষরতার সঙ্গে কীভাবে ডিজিটালের সংযোগ ঘটানো যায় তা নিয়ে আমাদের বিশেষভাবে ভাবতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে সাক্ষরতার বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প নেওয়া হয় কিন্তু সেখানে ডিজিটাল সাক্ষরতার ধারণা থাকে না। আরেকটা বিষয় ১৫ বছরের অধিক বয়সী জনগণের জন্য আপনি যখন কোনো প্রকল্প নেবেন তখন কর্মের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। তা না হলে মানুষ আগ্রহী হবে না।’ সাক্ষরতা নিয়ে দেশে তথ্যগত ও সংখ্যাগত বিভ্রান্তি আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হোয়াটসঅ্যাপ-ইমো পারেন, কিন্তু ওটিপি বোঝেন না : মজনু বিবির ছেলের বউদের স্মার্টফোন ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। তারা হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোতে বিদেশে থাকা স্বামীদের সঙ্গে কথা বলেন। অর্থাৎ ডিজিটাল যোগাযোগের একটি অংশ তারা করতে পারেন। কিন্তু ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন কিংবা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা সীমিত। বিকাশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া জানা নেই, ওটিপি-এর গুরুত্ব বোঝেন না। ফলে প্রযুক্তি তাদের যোগাযোগ সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। বরং অজ্ঞতার সুযোগে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং সুবিধা ও জনজীবন নিয়ে কাজ করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক নূর আলম সিদ্দিক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল জ্ঞান নেই। কেবল বয়স্ক নয় তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ আছেন, যারা স্কুল কিংবা কলেজ পর্যায়ে ঝরে পড়েছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠী ডিজিটালি নিরক্ষর। তা ছাড়া মধ্যবয়স্ক ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে নারী সমাজের মধ্যে ডিজিটাল জ্ঞান নেই। ফলে তারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে।

প্রযুক্তি যত বাড়ছে, নির্ভরশীলতাও তত? : মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন চিকিৎসা, সরকারি ওয়েবসাইট, রেলের টিকিট, বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল পরিশোধ কিংবা অনলাইন কেনাকাটার মতো সাধারণ কাজেও অনেক মানুষ পরিবারের তরুণ সদস্যদের সাহায্য নেন। ফলে ডিজিটাল সেবা মানুষের জীবন সহজ করার পাশাপাশি প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞদের জন্য নতুন ধরনের নির্ভরশীলতাও তৈরি করছে।

সুনামগঞ্জের বদিরগাঁও গ্রামের মতো দেশের বিভিন্ন এলাকায় বয়স্ক মানুষদের অনেকেই নিজের মোবাইলফোন থাকা সত্ত্বেও সেটি ব্যবহারে সন্তান, নাতি-নাতনি, প্রতিবেশী কিংবা দোকানের কর্মীর ওপর নির্ভর করেন। এতে একদিকে যেমন স্বনির্ভরতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে প্রতারণার ঝুঁকি। ইন্টারনেট ব্যবহার মানেই ডিজিটাল দক্ষতা নয় শুধু ইন্টারনেটে যুক্ত হলেই যে ডিজিটাল দক্ষতা তৈরি হয় না, বিবিএসের তথ্যেও তার ইঙ্গিত রয়েছে।

২০২৪-২৫ সালের আইসিটি (ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি) ব্যবহারের জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত আইসিটি দক্ষতা হলো কপি-পেস্ট করা যা করতে পারেন ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী।

কিন্তু অনলাইনে পাওয়া তথ্য যাচাই করা, সন্দেহজনক লিংক শনাক্ত করা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা, নিরাপদে মোবাইল ব্যাংকিং করা কিংবা জটিল অনলাইন সেবা নিজে গ্রহণ করার মতো দক্ষতা কতটা রয়েছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাড়লেই ডিজিটাল সাক্ষরতা নিশ্চিত হয় না।

শহর-গ্রামের ব্যবধানও বড় : দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল বৈষম্য এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিবিএসের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রামের মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবধান ৩২ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট। অর্থাৎ বয়সের পাশাপাশি একজন মানুষ কোথায় বসবাস করেন, সেটিও তার ডিজিটাল সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গ্রামের বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল। অনেকের কাছে স্মার্টফোন থাকলেও ডিভাইসের সব ফিচার ব্যবহার, ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার, ডিজিটাল লেনদেন কিংবা অনলাইন তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ ও প্রশিক্ষণ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্কদের মধ্যে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতা অনেকের নেই। ফলে তারা ভুয়া তথ্য, ক্লিকবেইট, অনলাইন প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছেন।

ডিজিটাল হচ্ছে ভাতা, কিন্তু দক্ষতা কোথায়?: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো ডিজিটাল হওয়ার পর এই সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডিজিটাল লেনদেন ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ মানুষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ অনেক বয়স্ক উপকারভোগীর জন্য এই ব্যবস্থা এখনো সহজ হয়নি।

২০২৫ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডিজিটালাইজেশন নিয়ে এক আলোচনায় এমন একটি বাস্তবতা উঠে আসে এক বয়স্ক নারী নিজের মোবাইল অ্যাকাউন্টে ভাতা না নিয়ে নাতির বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভাতা গ্রহণ করছিলেন। অর্থাৎ সরকারের অর্থ তার কাছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু সেই ব্যবস্থা পরিচালনার সক্ষমতা তার নিজের হাতে নেই।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ : বাংলাদেশে বর্তমানে ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছাতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের ডিজিটাল সমাজে বয়স্ক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখনই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সংযোগ দিলেই ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। বয়স্কদের হাতে-কলমে শেখাতে হবে কীভাবে নিরাপদে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করতে হয়, কেন ওটিপি কাউকে দেওয়া যাবে না, প্রতারণামূলক ফোন বা মেসেজ কীভাবে শনাক্ত করতে হয়, ভুয়া খবর যাচাই করার উপায় কী এবং সরকারি ডিজিটাল সেবা কীভাবে নিজেরা ব্যবহার করবেন।

সাক্ষরতার সংজ্ঞা কি বদলাবে : একসময় সাক্ষরতার অর্থ ছিল পড়তে ও লিখতে পারা। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দৈনন্দিন জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতা। এখন ডিজিটাল যুগে সেই ধারণার পরিধি আরও বড় হয়েছে।

মজনু বিবির পরিবারই তার উদাহরণ। তার ছেলের বউরা স্বাক্ষর করতে পারেন, পড়তে পারেন, হোয়াটসঅ্যাপ-ইমো ব্যবহার করেন। কিন্তু ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন কিংবা নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলো না জানায় তারা পরিবারের তরুণদের ওপর নির্ভরশীল। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসে এখন শুধু ‘কতজন পড়তে ও লিখতে পারেন?’ এখানে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। প্রশ্ন হওয়া উচিত ‘কতজন নিজেদের জ্ঞানকে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যবহার করতে পারেন?’

প্রযুক্তির উদ্দেশ মানুষের জীবন সহজ করা। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা তৈরি না হলে সেই প্রযুক্তিই বয়স্কদের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সমাজের নানাবিধ পরিবর্তন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান নিয়ে কাজ করছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আনিসুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা কাগজে কলমে যে স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর হিসাব পাই বাস্তবে কিন্তু তা পাওয়া যায় না। সরকারি হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের অনেক ব্যবধান। এর সঙ্গে যদি ডিজিটাল জ্ঞান সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর হিসাব করা হয় তাহলে এই সংখ্যা অনেক কম। সরকারের উচিত প্রকৃত স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর হিসাব বের করা। এতে তাদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত