শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সমাধানে সরকার পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কিশোর শিক্ষার্থীরা স্কুল অবরোধ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। তবে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। খবর রয়টার্সের।
তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানো এই বিক্ষোভ ফ্রান্সে দীর্ঘদিনের একটি বড় সংকটকে সামনে এনেছে। একদিকে জরাজীর্ণ সরকারি সেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের চাপ, অন্যদিকে ঋণ ও বাজেট ঘাটতি কমাতে বন্ডবাজারের চাপের মুখে থাকা অর্থসংকটে জর্জরিত সরকার—এই দুইয়ের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত শত শত মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন, আহত হয়েছেন কয়েক ডজন। কিশোর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে দাঙ্গা পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়েও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ২২৪টি উচ্চবিদ্যালয় পুরোপুরি বন্ধ ছিল। আরও ১৫১টি স্কুল আংশিকভাবে খুলেছে। বুধবার সকালের তুলনায় বন্ধ স্কুলের সংখ্যা ৩০ শতাংশ কমেছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশের ৯৪ শতাংশ উচ্চবিদ্যালয় পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে চালু রয়েছে।
বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নো বলেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সরকার 'বাস্তবসম্মত, দ্রুত এবং সম্পূর্ণ অর্থায়ন করা পদক্ষেপ' ঘোষণা করবে। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবি জানার জন্য সরকার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। প্রথম দুই দিনেই সেখানে ৪৩ হাজারের বেশি মতামত জমা পড়েছে। তবে একই সময়ে বিভিন্ন খাত সরকারের কাছে সহায়তা দাবি করায় চাপ আরও বাড়ছে। সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বাজারের উদ্বেগের কারণে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষকদের জন্য ২০০ কোটি ইউরোর সুদমুক্ত ঋণ ঘোষণা করেছে। গত গ্রীষ্মের রেকর্ড তাপপ্রবাহ ও খরার পর গত মাসে ঘোষণা করা ১৩০ কোটি ইউরোর জরুরি সহায়তার পাশাপাশি এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর টানা দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ছয় মাস বাকি। এমন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।